হেফজখানায় শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত, পালিয়ে এসে হাসপাতালে ভর্তি

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না :: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় হেফজখানায় রায়হান নামে এক শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত করে গুরুতর আহত অবস্থায় হেফজখানায় আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক মইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার রাতে রায়হান গুরুতর আহত অবস্থায় সহপাঠিদের সহযোগিতায় পালিয়ে এসে হাসপাতালে ভর্তি হয়। গত বুধবার উপজেলার গড্ডিমারী হাফিজিয়া মাদ্রাসায় বেত্রাঘাতের এ ঘটনাটি ঘটে। বর্তমানে আহত ওই শিক্ষার্থী স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ মইনুল ইসলামের বিচার দাবী করেছেন অভিভাবকরা।

স্থানীয় লোকজন জানান, গত বুধবার বিকেলে ওই মাদ্রাসার ছাত্র রায়হানের সাথে হেফ্জ খানার শিক্ষক হাফেজ মইনুল ইসলামের ভাগিনা আশরাফুল ইসলামের ঝগড়া হয়। ওই ঘটনার জের ধরে শিক্ষক হাফেজ মইনুল ইসলাম ওইদিন বিকেলে রায়হানকে বেদম মারধর করে মাদ্রাসা ঘরে আটকিয়ে রাখেন।১ দিন পর বৃহস্পতিবার রাতে সুযোগ বুঝে রায়হান সহপাঠীদের সহযোগিতায় মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে এসে হাতীবান্ধা হাসপাতালে ভর্তি হয়।

শুক্রবার বিকেলে সাংবাদিকরা হাসপাতালে গেলে আহত রায়হান জানান, তাকে আটকিয়ে রেখে প্রায় সময় মারধর করত ওই শিক্ষক হাফেজ মইনুল ইসলাম।

হাতীবান্ধা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার নাঈম হাসান নয়ন জানান, রায়হানের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের দাগ পাওয়া গেছে। সুস্থ হতে একটু সময় লাগবে।

মাদ্রাসা শিক্ষক হাফেজ মইনুল ইসলাম জানান, একটু শাসন করতে গিয়ে অতিরিক্ত মারধর হয়ে গেছে। এজন্য তার চিকিৎসাও করিয়েছি।

গড্ডিমারী হাফিজিয়ার মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটি’র সম্পাদক এমদাদুল হক জানান, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

হাতীবান্ধা থানার ওসি শামীম হাসান সরদার জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Pin It

Comments are closed.