‘স্যারে ম্যাডামরে শুধু আপ্পা দেয়’

 

শিক্ষকরা জাতি গড়ার কারিগর। শিক্ষকরা আদর্শবান হবেন এটাই স্বাভাবিক। তবে সেই শিক্ষক যদি হয় নৈতিক আদর্শ ভ্রষ্ট, চারিত্রিক ত্রুটি সম্পন্ন, নারী লোভী ও দুর্নীতিবাজ। তাহলে তাকে কিভাবে শিক্ষক বলে মেনে নেবে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা?

বান্দরবানের লামা উপজেলার মেওলাচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক মুহাম্মদ ওমর ফারুক এর নীতিবিবর্জিত কার্যক্রমে অতিষ্ট স্কুলের শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সহকর্মী ও এলাকাবাসি।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. নুরুজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ উক্ত স্কুলের সহকারী শিক্ষিকার সাথে শিক্ষক ওমর ফারুকের অবৈধ সম্পর্ক, প্রেম ভালবাসাসহ নানান অনৈতিক কাজের কারণে দুই শিক্ষককে এলাকায় প্রবেশসহ বিদ্যালয়ে আসতে নিষেধ করেছেন এলাকাবাসি। বেশ কয়েকবার তাদের অপকর্ম হাতেনাতে ধরেছে এলাকাবাসি। শতবার সতর্ক করা শর্তেও তারা দু’জন সংশোধন হয়নি। আমরা পরিচালনা কমিটি ও অভিভাবকরা মিলে বিদ্যালয়ে মিটিং করে রেজুলেশন দিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসকে বিষয়টি জানিয়েছি।

স্কুলের একাধিক অভিভাবক বলেন, ওমর ফারুক মাষ্টার সরকারী বই চুরি করে বিক্রি করার কারণে দীর্ঘদিন যাবৎ চাকুরি থেকে বরখাস্ত ছিল। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে।

স্কুলের শিক্ষার্থী কাউছার, জামাল, আকলিমা, আবুল ও রফিকুল জানায়, প্রায় সময় ফারুক স্যার ও ম্যাডাম শিশু শ্রেণির দরজা জানালা বন্ধ করে ভিতরে বসে থাকেন। ক্লাসে বেঞ্চে ম্যাডাম শুয়ে থাকলে ফারুক তার বাহির থেকে এসে শরীরের উপর শুয়ে পড়ে। স্কুলে হাঁটা চলার সময় একজন অন্যের সামনে পড়লে ফারুক স্যার ম্যাডামকে আপ্পা (চুমু) দেয়। আমাদের এইসব দেখলে লজ্জা লাগে।

শিক্ষক দু’জনের অনৈতিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত আছেন মর্মে লামা উপজেলা শিক্ষা অফিসার যতীন্দ্র মোহন মন্ডল বলেন, আমরা স্কুলের পরিচালনা কমিটি ও অভিভাবকদের কর্তৃক অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি জেলা শিক্ষা অফিসারকে অবহিত করা হয়েছে। এখনো কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।-বিডি প্রতিদিন

Pin It

Comments are closed.