সেই রোজিনা এই রোজিনা

চলচ্চিত্রের সোনালি দিনগুলোর দিকে ফিরে তাকালে দর্শকদের নিশ্চয়ই প্রিয় কিছু নায়িকার কথা মনে পড়ে। শাবানা, কবরী ও ববিতার পাশাপাশি আরও একজন জনপ্রিয় নায়িকার অভিনয়ে তখন দর্শকরা কখনো হেসেছেন, আবার কখনো কান্নার নোনাজলে ভেজা চোখ মুছেছেন। আর এই নায়িকার নাম রোজিনা। ক্যারিয়ারের শুরুতে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি কিছুটা সাফল্য পেয়েছেন। এরপর ১৯৭৭ সালে এফ কবীর চৌধুরীর ‘রাজমহল’ ছবিতে অভিনয় করেন নায়িকা। এটি মুক্তির পর সুপার ডুপার ব্যবসা করে।

ফলে আর তাকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। এই ছবিতে রোজিনার বিপরীতে অভিনয় করেন চিত্রনায়ক ওয়াসিম। আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘কসাই’ ছবিতে অভিনয়ের স্বীকৃতি স্বরূপ রোজিনা সর্বপ্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। একই পুরস্কার তিনি আরও পেয়েছেন মতিন রহমান পরিচালিত ‘জীবনধারা’ ও কবীর আনোয়ার পরিচালিত ‘দিনকাল’ ছবিতে অভিনয়ের জন্যও।

এদিকে কো প্রোডাকশনের ছবি (পাকিস্তানের সাথে) হাম সে হায় জামানাতে অভিনয়ের জন্য ১৯৮৬ সালে রোজিনা পাকিস্তান থেকে নিগার অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় নায়ক নাদিম। এছাড়া রোজিনা নেপাল, শ্রীলঙ্কার সাথেও কো-প্রোডাকশনের ছবিতে অভিনয় করেছেন। ১৯৮৪ সালে তিনি এই ধারার ছবি ‘অবিচার’-এ অভিনয় করেন বোম্বের সুপারস্টার মিঠুন চক্রবর্তীর বিপরীতে। পরিচালক ছিলেন হাসান ইমাম ও শক্তিসামন্ত। সময়ের ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালে এসে রোজিনা তখন প্রায় ২৫০ ছবি বয়সী এক অভিজ্ঞ অভিনেত্রী।

এ সময় তিনি ঘোষণা দেন আপাতত আর ছবিতে কাজ করবেন না। মাঝে অনেকদিন রোজিনা বিদেশে ছিলেন। দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরে ২০০৪ সালে তিনি মতিন রহমানের পরিচালনায় ইমপ্রেস টেলিফিল্মের প্রযোজনায় ‘রাক্ষুসী’ ছবিতে অভিনয় করেন। এতে তার বিপরীতে ছিলেন ফেরদৌস। নতুন করে আর কোনো ছবিতে দেখা যায়নি নায়িকাকে। ঢাকাই চলচ্চিত্রের ড্রিমগার্ল খ্যাত নায়িকা রোজিনা এখনো প্রতিনিয়তই চলচ্চিত্রাভিনয়ের প্রস্তাব পাচ্ছেন। তবে মাঝে মাঝে তাকে টিভি নাটক ও টেলিফিল্মে অভিনয় করতে দেখা যায়। এক্ষেত্রে অন্যের নির্দেশনায় নয়, নিজের নির্দেশনাতেই অভিনয় করেন তিনি।

Pin It

Comments are closed.