সামাজিক জীবন ধ্বংস করছে স্মার্টফোন-ইন্টারনেট?

‘সোশ্যাল সাইট’ বা ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম’ আজকাল বহুল প্রচলিত ধারণা। এগুলোর সাহায্যে ইন্টারনেট ব্যয় করে বা না করে ঘরে বসেই সেরে নেওয়া যায় সামাজিক যোগাযোগ। তাই অনেকে মনে করেন, বন্ধু–পরিবারের সঙ্গে দেখা নেই, তাই ফোনে যোগাযোগ রাখলে সম্পর্ক বাঁচবে। কিন্তু আসলেই কি তাই?

ফেসবুকে, হোয়াটসঅ্যাপে তাই সারাদিন কথা চলছে, বন্ধু পরিবারের সঙ্গে। কিন্তু গবেষণা বলছে, এর ফলে সামাজিক ভাবে একা হয়ে পড়ছে এই প্রজন্ম। ফোনে কথা হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু একাকীত্ব কমছে না। কেন্ট স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা প্রায় ৪০০ ছাত্রছাত্রীর উপর পরীক্ষা করে দেখেছে, যে একদিনে মেয়েরা ছেলেদের থেকে বেশি ফোন ব্যবহার করে। গড়ে দিনে প্রায় ৩৬৫ টি টেক্সট ম্যাসেজ ও ১৬ বার ফোনে কথা বলে মেয়েরা।

অন্যদিকে, ছেলেরা দিনে ২৮৫ টি টেক্স ম্যাসেজ করে, আর কমেবেশী ১০ টি ফোন কলে কথা বলে। কিন্তু ফোনের আলাপে মেয়েরা যতটা মানসিক ভাবে জড়িয়ে পড়ে, ছেলেরা তার থেকে অনেটাই কম। কিছুটা দায় সারতেই অনেকের সঙ্গে কথা চালায় তারা।

সেই সঙ্গে আছে অসময়ে ফোন ব্যবহার করার বদঅভ্যাস। ঘুমের সময়ে, গাড়ি চালাতে চালাতে, বা পড়া বা কাজের সময়ে যদি অতিরিক্ত ফোন ব্যবহার করা হয় তাহলেও মনঃসংযোগে বিপুল ব্যঘাত ঘটে। যা স্বাভাবিক জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই যারা ভাবছেন সময়ের অভাবে আড্ডায় যেতে না পারলে সামাজিক জীবনটা সোশ্যাল সাইটেই বাঁচিয়ে রাখবে, তারা কিন্তু ভেতরে ভেতরে একা হয়ে পড়ছেন।-কালেরকন্ঠ

Pin It

Comments are closed.