শিক্ষককে জুতাপেটার ঘটনায় মামলা

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষককে জুতাপেটার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। লাঞ্ছনার শিকার প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে মঙ্গলবার দিনগত রাতে কালীগঞ্জ থানায় এই মামলা দায়ের করেন। গোপালরায় পঞ্চপথী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আতাউজ্জামান রঞ্জু ও অভিভাবক সদস্য আব্দুল মতিনসহ অজ্ঞাত আরো ২/৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন আলমের নির্দেশে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মঙ্গলবার বিদ্যালয় পরিদর্শন ও শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। বিদ্যালয়ের পাঠদান স্বাভাবিক রাখার অনুরোধও করেন তিনি। পরে শিক্ষকরাও ক্লাস বর্জন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিলে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়ে আসে।

গত রবিবার (২১-আগস্ট) বিকালে ম্যানেজিং কমিটির সভায় সবার সামনে প্রধান শিক্ষককে জুতাপেটার ঘটনাটি বাংলা ট্রিবিউনসহ গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার হয়। এই ঘটনায় দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের নির্দেশে বিদ্যালয় পরিদর্শক রবীন্দ্র নারায়ন ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি পরির্দশনে যান। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের দুই সদস্যের প্রতিধিনিধি দলকে সার্বিক সহযোগিতা করছেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন আলম।

প্রসঙ্গত, বিদ্যালয়ের তহবিলে থাকা দেড় লাখ টাকা বেশ কয়েকদিন ধরে ধার হিসেবে চাচ্ছিলেন কমিটির সভাপতি আতাউজ্জামান রঞ্জু। কিন্তু প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম টাকা দিতে অপারগতা জানিয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভায় বিষয়টি সমাধানের পরামর্শ দেন। ফলে রবিবার সকালে প্রধান শিক্ষককে জরুরি সভা ডাকার পরামর্শ দেন সভাপতি। ওইদিন বিকালে সভা ডাকা হয়। সভায় উপস্থিতরা রঞ্জুর চাপে একপর্যায়ে তাকে ৫০ হাজার টাকা ধার দেওয়ার বিষয়ে একমত হন। কিন্তু বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি তিনি। এতে তিনি উত্তেজিত হয়ে রেজুলেশন বইয়ের কয়েকটি পাতা ছিঁড়ে ফেলেন ও নিজের পায়ের জুতা খুলে উপস্থিত সবার সামনেই প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীরকে পেটাতে থাকেন। এসময় তিনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও নানাভাবে হুমকিও দেন তাকে।

ওই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার ক্লাস বর্জন শুরু করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা। সভাপতির শাস্তি ও অপসারণ দাবিতে তারা সোমবার ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনও করেন। তবে বুধবার অনির্দিষ্টকালের ক্লাস বর্জন কর্মসূচী প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা ক্লাসে ফিরেছেন।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহীনুর আলম বলেন, ‘এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। শ্রেণি পাঠদান ব্যবস্থাও স্বাভাবিক রয়েছে। বিষয়টি বিস্তারিত জানার জন্য ইতোমধ্যে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শকসহ দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বিদ্যালয় পরিদর্শন করছেন। স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মতামতও শুনছেন তারা।’

প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম মামলা দায়েরের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর যেন কোথাও না ঘটে। সেজন্যই কঠোর বিচার চাই।’

Pin It

Comments are closed.