লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে তীব্র যানজট

লালমনিরহাট-বুড়িমারী জাতীয় মহাসড়ক পুনর্নির্মাণের জন্য খোঁড়াখুঁড়ির কারণে আদিতমারী উপজেলার নির্মাণাধীন স্বর্ণামতি সেতু থেকে বুড়িরহাট বাজারের সামনে পর্যন্ত দুই কিলোমিটার পার হতে চালকের অন্তত তিন দিন লাগছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আমদানি-রপ্তানি পণ্যবোঝাই, খালি ট্রাকসহ কয়েক শ ট্রাক আটকা পড়েছে। এ দুই কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাকচালকদের অভিযোগ, পুনর্নির্মাণাধীন মহাসড়কের কর্দমাক্ত গর্তে ফেঁসে যাওয়া ট্রাক ঠিকাদারের এক্সেভেটর দিয়ে ঠেলে পার করে দিতে ট্রাকপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বকশিশ দিতে হচ্ছে। টাকার ভাগাভাগি নিয়ে মারামারির ঘটনায় গত শনিবার দুপুরে স্থানীয় ফারুক নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশ। আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হরেশ্বর রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আদিতমারী উপজেলার নির্মাণাধীন স্বর্ণামতি সড়ক সেতুর পশ্চিম দিকে এক হাজার মিটার ও পূর্ব দিকে ৩১৮ মিটার মহাসড়ক পুনর্নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। আর কাজ করছে মেসার্স আমিনুল হক ও বিসমিল্লাহ বর্ষণ নামের জয়েন্ট ভেঞ্চার প্রতিষ্ঠান। গত মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু হয়ে সেপ্টেম্বরে মহাসড়কটির পুনর্নির্মাণের কাজ শেষ করার কথা। অভিযোগ রয়েছে, সড়কের ওপরের অংশে মাটিমিশ্রিত বালু ব্যবহার করায় চলতি বর্ষা মৌসুমের বৃষ্টিতে তা কর্দমাক্ত হয়ে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কাদায় আটকে যাচ্ছে গাড়ির চাকা।

আদিতমারী উপজেলার ভাদাই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রোকনুজ্জামান বলেন, আমার ইউনিয়ন এলাকার প্রায় দুই কিলোমিটার মহাসড়ক পুনর্নির্মাণের কাজ নিয়ে স্থানীয় লোকদের অভিযোগের কোনো শেষ নেই। বিষয়টি লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালীগঞ্জ) আসনের সাংসদ ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহম্মেদকে জানানো হয়েছে।

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগকে সার্বক্ষণিক উপস্থিত থেকে বালু ও খোয়া দিয়ে মহাসড়ক পুনর্নির্মাণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যানজট নিরসনে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে খুব দ্রুততার সঙ্গে কাজ শুরু হবে।

সওজ বিভাগের লালমনিরহাট কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান বলেন, কাদা জমে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। মাটিমিশ্রিত বালু এ মহাসড়কে না ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ঠিকাদারের লোকজন তা শোনেননি। এ কারণে বৃষ্টির পানিতে কাদা হয়েছে। আকাশ ভালো হলেই ঠিকাদারকে কাদামাটি অপসারণ করতে বলা হবে।

Pin It

Comments are closed.