লালমনিরহাট বিসিক শিল্পনগরী জ্বালাতে পারেনি আশার আলো

অনলাইন ডেস্ক :: লালমনিরহাট জেলায় শিল্পকারখানা না থাকায় বেকার সমস্যা বেড়েই চলছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের চরম ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে লালমনিরহাটের এই বেকার সমস্যা জেলার সার্বিক পরিস্থিতিকে নাজুক করে তুলেছে। প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা আর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাবে সম্ভাবনাময় লালমনিরহাট বিসিক শিল্পনগরী আশার আলো জ্বালাতে পারেনি। শিল্প নগরীটিকে দেখলে মনে হয় কোনো গোচারণভূমি। শিল্প উদ্যোক্তাদের অনীহা, ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা না থাকা আর লোকবল সঙ্কটের কারণেই গড়ে উঠছে না কোনো নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান।

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের সাপ্টিবাড়ীতে ১৯৮৭ সালে ১৫ দশমিক ৬০ একর ভূমি অধিগ্রহণ করে বিসিক কর্তৃপক্ষ। ১০৬টি প্লট তৈরির মাধ্যমে ১৯৯৩ সালে এর অবকাঠামোগত কাজ শেষ হয়। কাজ শেষে এখানে ২৩টি শিল্প ইউনিট গড়ে তোলার জন্য ৯১টি প্লট বরাদ্দ নেন আগ্রহীরা। কিন্তু বর্তমানে দুটি তারকাঁটা ফ্যাক্টরি, একটি ময়দা মিল, একটি হিমাগার, একটি প্লাস্টিক কারখানাসহ মাত্র ১০টি প্রতিষ্ঠান চালু আছে। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, অব্যাহত লোকসান, বিদ্যুৎসঙ্কটসহ নানামুখী সমস্যায় বন্ধ রয়েছে বেশ কয়েকটি কারখানা।

বিসিক শিল্পনগরীর ব্যবসায়ী আবদুস সালাম বকুল বলেন, সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে পুঁজি বিনিয়োগের ব্যবস্থা, উদ্যোক্তাদের মধ্যে আগ্রহের সৃষ্টি ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ প্রদান ও লোকবল সঙ্কট সমস্যা দূর হলে বিসিক তার প্রাণ ফিরে পাবে। অনেকে শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য প্লটের আবেদন করলেও তাদের প্লট দেয়া হচ্ছে না জানালেন একাধিক উদ্যোক্তা।

শিল্পনগরী কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম জানান, আগে যোগাযোগব্যবস্থা বেশ অনুন্নত ছিল কিন্তু তিস্তা সড়ক সেতু হওয়ার ফলে এখন যোগাযোগব্যবস্থা খুবই ভালো। তাই অল্প সময়ের মধ্যে বিসিক শিল্পনগরীতে ব্যবসায়ীরা তাদের গ্রহণকৃত প্লটে কারখানা স্থাপন করবেন।

বিসিক শিল্পনগরী জেলার বেকার সমস্যা দূর করার পাশাপাশি লালমনিরহাটের অর্থনৈতিক উন্নয়নে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে এটাই প্রত্যাশা জেলার সচেতন মহলের।

Pin It

Comments are closed.