লালমনিরহাটে ৫ম শ্রেনীর ছাত্রীকে অপহরণ করে ধর্ষণ, ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে ৫ম শ্রেনীর এক মাদরাসা ছাত্রী অপহরণের অভিযোগে আজ বুধবার দুপুরে এক ইউপি সদস্য ও তার ছেলেসহ ৪ জনের নামে মামলা দায়ের করেছেন ছাত্রীর মা ফাতেমা বেওয়া। এদিকে এ ঘটনাটিকে ধামা চাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন পলাশী ইউপি চেয়ারম্যান শওকত আলীসহ একটি প্রভাবশালী মহল।

মামলার বিবরনে জানাগেছে,আদিতমারী উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের মদনপুর গ্রামের ফাতেমা বেওয়ার ৫ম শ্রেনীর মাদরাসা পড়ুয়া ছাত্রীকে গত সোমবার রাত ৮টার দিকে একই ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য নুর মোহাম্মদের বখাটে ছেলে আব্দুল কাদের বাড়ির পার্শ্ব থেকে জোর পূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় মেয়ের মা ফাতেমা বেওয়া আদিতমারী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ দায়েরের পর আদিতমারী থানার ওসি হরেশ্বর রায়ের নেতৃত্বে একদল পুলিশ গত মঙ্গলবার রাতে মেয়েটিকে উপজেলার সাপ্টিবাড়ি ইউনিয়ন থেকে উদ্ধার করেন। এসময় অপহরণকারীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। তবে এ অপহরণের সাথে ইউপি সদস্য প্রত্যক্ষভাবে জড়িত বলে মেয়েটির মা দাবী করেন।

বুধবার দুপুরে থানায় ওই ছাত্রীর সাথে কথা হলে বেরিয়ে আসে লোমহর্ষক কাহিনী। তিনি জানান, অপহরণের পর একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তাকে একাধিকবার জোর পূর্বক ধর্ষণ করেছে আব্দুল কাদের। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠ বিচার দাবী করেন।

এদিকে এ ঘটনাটিকে ধামা চাপা দেয়ার জন্য পলাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শওকত আলীসহ একটি মহল জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন বলে মেয়ের মা ফাতেমা বেওয়া সাংবাদিকদের জানান। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পলাশী ইউপি চেয়ারম্যান শওকত আলী।

এ ঘটনায় মেয়ের মা বাদী হয়ে পলাশী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য নুর মোহাম্মদ (৫৫) তার ছেলে আব্দুল কাদের (২২), আশরাফ আলী (৩২) ও রিপন মিয়ার (২৫) নাম উল্লেখ করে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেছেন।

মামলা দায়েরের পর পরই আদিতমারী থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) ও তদন্ত কর্মকর্তা শাহীন আকতার জানান, মেয়েটিকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য আজ বুধবার (২৪ আগস্ট) বিকালে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আদিতমারী থানার ওসি হরেশ্বর রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আসামীদের দ্রুত গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাবে।

Pin It

Comments are closed.