লালমনিরহাটে স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যা

নিউজ ডেস্ক :: নতুন বই না পাওয়ায় অভিমানে লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নে আমিনা খাতুন (১৩) নামে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রী আত্নহত্যা করেছে।

বুধবার (৩ জানুয়ারী) বেলা ১২টার দিকে সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের কুলাঘাট বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আমিনা খাতুন কুলাঘাট বাজার এলাকার আব্দুস সালামের মেয়ে। সে স্থানীয় কুলাঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্রী।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানান, ৬ষ্ঠ শ্রেনীর বার্ষিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয় আমিনা খাতুন। যার কারনে তাকে ৭ম শ্রেনীতে উন্নীত করা হয়নি। তার বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী বই উৎসবে নতুন বই পেলেও অকৃতকার্য হওয়ার কারনে আমিনাকে ৬ষ্ঠ শ্রেনীর নতুন বই দেয়া হয়নি। বুধবার সকালে তাকে বই নিয়ে দেয়ার আশ্বাসে বিদ্যালয়ে পাঠায় তার পরিবার। কিন্তু সেখানে বই না পেয়ে ক্ষুব্ধ মনে বাড়ি ফিরে আমিনা। এরপর বাড়ির সকলের অগোচরে বেলা ১২টার দিকে ঘরের ভিতর গলায় রশি পেচিয়ে আত্নহত্যা করে।

তার কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে বাড়ির লোকজন ঘরের দরজা ভেঙ্গে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখে পুলিশে খবর দেয়।

পুলিশ ঘটনা স্থলে এসে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করা শেষ হওয়ার পরে লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে নেয়ার প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু ওই ইউনয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী জেলার শীর্ষ স্থানীয় আ’লীগ নেতাদের দিয়ে লাশের ময়না তদন্ত ছাড়াই দাফনের চেষ্টা চলাচ্ছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত লাশ হস্তান্তরের কার্যক্রম চলছিল।

পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) উদয় কুমার মন্ডল জানান, আমিনার শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায় নি। প্রাথমিক ভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলেই ধারনা করা হচ্ছে। তবে কি কারনে সে আত্মহত্যা করেছে, এর কারন অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মজিদ জানান, আমিনা ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে ফেল করায় তাকে নতুন বই নেয়া হয় নি। ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ভর্তি পরীক্ষা শেষে ওই ক্লাসের সবাইকে বই দেয়া হবে। তবে বই না পাওয়ায় আমিনা আত্মহত্যা করে নি বলেও দাবি করেন তিনি।

লালমনিরহাট সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে কয়েকজন অফিসার পাঠানো হয়েছে। তাদের তদন্ত শেষ হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Pin It

Comments are closed.