লালমনিরহাটে রোগব্যাধি আর নদীর ভাঙনে দিশেহারা বন্যা দুর্গতরা

লালমনিরহাটে ধরলায় দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন

লালমনিরহাটে ধরলায় দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন

 

বন্যায় পানিবন্দি অবস্থা থেকে উদ্ধার হয়ে নিজ ঘরে ফিরলেও ধরলা ও তিস্তা পাড়ের মানুষ নানা রোগব্যাধিতে ভুগছেন। এদিকে বন্যা কবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র নদী ভাঙন। এক দিকে নদী ভাঙন অন্যদিকে পানিবাহিত রোগব্যাধিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বানভাসি পরিবারগুলো।

বন্যা দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সঙ্কট ও স্যানিটারি ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় নানা রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

কুলাঘাট ইউনিয়নের বাসিন্দা হারুনুর রশীদ বলেন, বোয়ালমারীর চরের বন্যা দুর্গতরা নিদারুণ কষ্টে বসবাস করছে। সেখানে পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছেনি । মেডিক্যাল টিমও যায়নি। বিশুদ্ধ পানির মারাত্মক অভাব। নদী ভাঙনও দেখা দিয়েছে।

হাতীবান্ধার পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ পারুলিয়া এলাকার রোগী আফজাল হোসেন, আমিনা খাতুন ও হাফেজা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা ১২/১৩ দিন পানিবন্দি অবস্থায় ছিলাম। তিস্তায় বন্যার পানি নেমে গেছে। বিশুদ্ধ পানির যেমন অভাব। তেমনি রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে।’

চরের মিনা বেগম ও দুলু মিয়া বলেন, ‘আমরা তো ধরলা নদীর এপারে থাকি। ত্রাণও পাই না। বিশুদ্ধ পানি আর ওষুধপত্র তো সোনার হরিণের মতো। নৌকায় লালমনিরহাট বা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী বাজারে গিয়ে তারপর ওষুধপত্র কিনতে হয়। এখানে কোনও মেডিক্যাল টিম আসেনি। বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাবে শিশু ও বয়স্করা বেশি ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, এসব দেখার যেন কেউ নেই।

লালমনিরহাট জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা ইদ্রিস আলী বলেন, ধরলা নদীর তীরবর্তী জোংড়া, মোগলহাট, কুলাঘাট এবং তিস্তা নদীর তীরবর্তী দহগ্রাম, সিন্দুর্ণা, পাটিকাপাড়া, সানিয়াজান, গোড্ডিমারী, ডাউয়াবাড়ী, ভোটমারী, তুষভাণ্ডার, কাকিনা, মহিষখোচা, গোকুন্ডা, রাজপুর ও খুনিয়াগাছ ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব ইউনিয়নের ৪৯ হাজার ৮৬০টি পরিবার সাময়িকভাবে পানিবন্দি এবং ৭৯০টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদী গর্ভে সম্পূর্ণভাবে বিলীন হয়ে গেছে। এসব পরিবারের মধ্যে ২৭৫০টি শুকনা খাবার প্যাকেট, ৬৯৬ টন জিআর চাল, ২৫০ বান্ডিল টিন, ২৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা আরও জানান, দুর্গত এলাকায় মেডিক্যাল টিম পাঠানোর জন্য লালমনিরহাটের সিভিল সার্জন ও জেলার ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এরইমধ্যে মেডিক্যাল টিম কাজ শুরু করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে, কুলাঘাট, গোড্ডিমারী, সানিয়াজান, মহিষখোচা ও ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা দুর্গতরা চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগে উঠেছে।
জানতে চাইলে লালমনিরহাট জেলার সিভিল সার্জন ডা. আহসান আলী বাবু বলেন, স্বল্পতার কারণে সব জায়গায় চিকিৎসক দল পাঠানো যাচ্ছে না। তবে তাদের চেষ্টা আছে বলে তিনি দাবি করেন।

Pin It

One thought on “লালমনিরহাটে রোগব্যাধি আর নদীর ভাঙনে দিশেহারা বন্যা দুর্গতরা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।