লালমনিরহাটে বিড়ি শ্রমিকদের বিক্ষোভ

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না :: ‘দুই বছরের মধ্যে বিড়ি বিদায় করতে চাই’ অর্থমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে লালমনিরহাটে কর্মরত বিড়ি শ্রমিক এবং বিড়ি কোম্পানির স্থানীয় প্রতিনিধিরা। বুধবার দুপুরে এ বিক্ষোভ মিছিলটি করে তারা। মিছিল শেষে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে তারা।

মিছিলটি লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়ী আকিজ বিড়ি ফ্যাক্টরির সামনে থেকে বের হয়ে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।

স্মারকলিপিতে দেশের লক্ষ লক্ষ দরিদ্র, বিধবা, স্বামী পরিত্যাক্তা ও প্রতিবন্ধীদের হাতে বিড়ি তৈরি হয়। সেই হাতগুলো বেকার করার জন্য যুগ যুগ ধরে দেশি-বিদেশি সিগারেট কোম্পানিগুলো নানাভাবে ষড়যন্ত্র করে আসছে। এসব শ্রমিকের স্বার্থে আসন্ন ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের বাজেটে বিড়ি শিল্পের উপর কর আরোপ না করে বিড়ি শিল্পকে কুটির শিল্প হিসেবে বিবেচনার জন্য আবেদন জানানো হয়।

এ ব্যাপারে জেলা বিড়ি শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক আজিজার রহমান বলেন, ‘বিড়ি শিল্পের উপর কর বৃদ্ধির কারণে গ্রামীণ কর্মসংস্থান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বিড়ি শিল্পের উপর কর আরোপ বন্ধ এবং অর্থমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ মিছিল ও স্বারকলিপি দেয়া হয়েছে।’

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবুল ফয়েজ মো. আলাউদ্দিন খান বলেন, ‘আমার অফিস ডাক ফাইলে এমন একটি স্বারকলিপি পেয়েছি।’

অপরদিকে বিক্ষোভে যোগ দেয়া বিড়ি ফ্যাক্টরির একাধিক শ্রমিক জানান, আমরা সারাদিন বিড়ি ফ্যাক্টরিতে কাজ করে ১৭০-১৮০ টাকা মজুরি পাই। ফ্যাক্টরি মালিকগণ বিড়ি শ্রমিকদের মজুরি না বাড়িয়ে আমাদের সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করতে নিয়ে এসেছে। আমরা বিড়ি শ্রমিক দীর্ঘদিন থেকে এই বিড়ি তৈরির কাজ করে আসছি। হঠাৎ করে অন্য কাজ করতে পারবো না তাই তাদের এই বিক্ষেভে আসা। পরবর্তীতে আমাদের বিড়ি ফ্যাক্টরিতে কাজে নিবে বলে হুমকি দিয়েছেন। সরকার যদি আমাদের মতো বিড়ি শ্রমিকদের বিকল্প কাজের ব্যবস্থা করে দেন তাহলে আমাদের বিড়ি তৈরির কাজে যেতে হবে না।

এ ব্যাপারে আকিজ বিড়ি কোম্পানির সাপ্টিবাড়ী অফিসের সহকারী ইনচার্জ জসিম উদ্দিন নিজেকে শ্রমিক দাবি করে বিক্ষোভ মিছিল করেন বলে জানান। তবে তিনি কোম্পানির প্রতিনিধি হয়ে মিছিলে অংশ নিতে পারেন কি না জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

Pin It

Comments are closed.