লালমনিরহাটে বিলুপ্ত ছিটমহলবাসী পেল জমির মালিকানা

নিউজ ডেস্ক :: লালমনিরহাটে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিলুপ্ত ছিটমহলে নতুন বাংলাদেশিদের মাঝে জমির চূড়ান্ত খতিয়ান সোমবার (১৩ নভেম্বর) থেকে বিতরণ শুরু হয়েছে। এ খতিয়ান বিতরণের মধ্য দিয়ে বিলুপ্ত ছিটমহলবাসী তাদের জমির মালিকানা পেল। ফলে জমি ক্রয়-বিক্রয়ে আর কোনো বাধা রইল না। তবে এরপরও কারও কারও কিছু ত্রুটির অভিযোগ রয়েছে। সেই সব ক্রুটিও সংশোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন লালমনিরহাট সদর উপজেলার সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান।

লালমনিরহাট সেটেলমেন্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট সদর উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল বাঁশপচাই পরিবর্তন হয়ে ধাইরখাতা মৌজার অধীনে ২৬৯টি খতিয়ান সংযুক্ত ও বোয়ালমারী বাঁশপচাই পরিবর্তন হয়ে বনগ্রাম মৌজার অধীনে ৪৭৯টি খতিয়ান সংযুক্ত করা হয়েছে। দীর্ঘ ৬৭ বছর পর ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় হলে সরকার বিলুপ্ত ছিটমহলে বসবাসরত লোকজনের ভূমি জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এতদিন এসব অধিবাসীর জমির মালিকানা ছিল না।

ভারত-বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ১৬২টি ছিটমহলের বসবাসকারী অধিবাসীদের নিজস্ব কোনো পরিচয় ছিল না। তবে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর ছিটমহল বিনিময় হলে এসব ভূ-খন্ডে বসবাসকারী অধিবাসীরা নিজের পরিচয় পান। এরপর তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটতে থাকে। জাতীয় পরিচয়পত্র বুঝে পাওয়ার পর ভোটাধিকার প্রয়োগেরও সুযোগ পান। এবার পেলেন জমির মালিকানাও। গত দুই বছরে বিলুপ্ত ছিটমহলগুলোতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। ইতোমধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্রও প্রদান করা হয়েছে।

লালমনিরহাট অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আহসান হাবীব জানান, আগামী ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিলুপ্ত ছিটমহলের নতুন বাংলাদেশিদের মধ্যে জমির মূল খতিয়ান ও নকশা বিতরণ অব্যাহত থাকবে। জেলার সদর উপজেলায় ৭৪৮টি, হাতীবান্ধায় ২৮৯টি ও পাটগ্রামে ৪ হাজার ২৭৬টি খতিয়ান বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

Pin It

Comments are closed.