লালমনিরহাটে নিবন্ধনহীন এনজিও-সমিতির ‘দাদন ব্যবসা’

লালমনিরহাটে সরকারি অনুমোদন ছাড়াই ক্ষুদ্রঋণ ব্যবসা জাঁকিয়ে বসেছে কিছু এনজিও ও সমিতি। তাদের অনেকের নিবন্ধনও নেই। এসব সমিতি কিংবা এনজিওর ঋণের জাতাকলে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলার পাঁচটি উপজেলার শতাধিক এনজিও ক্ষুদ্র ঋণের নামে মূলত দাদন ব্যবসা করছে। জরুরি প্রয়োজনে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও দিনমজুররা এদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে আটকা পড়ে জাতাকলে। সুদ ও ঋণের টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে অনেকে ঘরের আসবাবপত্র বিক্রি করছেন, আবার অনেককে ঘরবাড়ি বিক্রি করতে হচ্ছে।

খোজঁ নিয়ে দেখা গেছে, কিছু কিছু এনজিও বা সমিতির কোনো সরকারি নিবন্ধন নেই। কিন্তুু তারা দেদারসে ক্ষুদ্রঋণের ব্যবসা করে চলেছে।

নিয়ম অনুযায়ী একটি এনজিওর ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির নিবন্ধন নিতে হয়। আর সমিতির ক্ষেত্রে সমাজসেবা ও সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধন নিয়ে শুধু নিজের সদস্যদের কাছ থেকে সঞ্চয় গ্রহণ ও ঋণ দেয়ার কথা। কিন্তু এসব এনজিও ও সমিতি সরকারি নিয়মনীতির থোড়াই কেয়ার করছে।

এ রকমই কয়েকটি সমিতি রয়েছে শহরের শহীদ শাহজাহান কলোনি (ডাইলপট্টি) এলাকায়। বিভিন্ন দোকানে এসব নামসর্বস্ব সমিতি হলো-সহযোগী সমিতি, সহায়িকা বহুমুখী সমবায় সমিতি, উদয়ন সমিতি, শাহজাহান নগর সমবায় সমিতি, লালমনিরহাট ক্ষুদ্র খীলিপাটন ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। এসব অনুমোদনহীন সংস্থা পাস বইয়ের মাধ্যমে ঋণের কিস্তির টাকা তুলছে।

অনেকে ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, এসব সংস্থার সভাপতি-সম্পাদকরা দিনে দিনে আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে যাচ্ছেন। তাদের প্রভাবের কারণে কেউ কিছু বলতে পারে না।

লালমনিরহাটের সচেতন মহল এসব কর্মকা-কে ‘দাদন ব্যবসা’ আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করেছেন।

এ ব্যাপারে লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুল ইসলাম জানান, ‘সরকারি অনুমোদন ছাড়া কোনো এনজিও ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম পরিচালিত করতে পারে না। এমন কর্মকা-ের অভিযোগ এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

Pin It

Comments are closed.