নকল সরবরাহে অভিযুক্ত শিক্ষক ভর্তি কমিটিতে, উদ্বেগে অভিভাবকরা

নিউজ ডেস্ক :: লালমনিরহাট সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের নকল সরবরাহের দায়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মোহসিন আলীকে ভর্তি কমিটির সদস্য করায় অভিভাবকদের মাঝে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিভাবকরা ওই ভর্তি কমিটি ও পরীক্ষা বাতিল করে নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে পরীক্ষা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

গত রোববার (২৪ ডিসেম্বর) ষষ্ঠ শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং সোমবার ওই পরীক্ষায় ফলাফল প্রকাশ হয়েছে।

অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লালমনিরহাট সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষক মোহসিন আলী নিজ এলাকায় চাকরির সুবাদে একটি বড় সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। ওই সিন্ডিকেট দিয়ে তিনি ভর্তি ও কোচিং বাণিজ্য করে আসছেন। এক যুগ ধরে একই স্থানে চাকরি ও স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে সিনিয়র শিক্ষকদের ডিঙিয়ে তিনি বিভিন্ন পরীক্ষার সহকারী হল সুপার হয়ে আসছেন। ওই সুযোগে তিনি বিদ্যালয়ের পাশে একটি ভবন ভাড়া নিয়ে কোচিং বাণিজ্য খুলেছেন। আর তার কোচিংয়ের শিক্ষার্থীদের বিশেষ অনৈতিক সুযোগ প্রদান করে আসছেন। তার কোচিংয়ের শিক্ষার্থীরা বিত্তবান পরিবারের হলেও উপ-বৃত্তির ব্যবস্থা করেন তিনি।

গত ২০১৪ সালে এসএসসি পরীক্ষায় নকল সরবরাহের দায়ে তখনকার সহকারী হল সুপার মোহসিন আলীকে আটক করে বহিস্কার করেন কেন্দ্রের দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এর পরও বিভিন্ন পরীক্ষায় দায়িত্ব নিচ্ছেন ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে। মোহসিন আলীর ভর্তি কোচিংয়ের কোন শিক্ষার্থী ভর্তি থেকে বাদ পড়ে না এমন অভিযোগ অভিভাবকদের। কোনো শিক্ষার্থীর মেধাবী কম হলেও ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। তার কোচিংয়ের বাহিরে মেধাবীরাও ভর্তির সুযোগ পায় না বলে অভিভাবকদের অভিযোগ। কারণ হিসেবে অভিভাবকরা দাবি করেন, এ ভর্তি পরীক্ষার যাবতীয় দায়িত্ব তার হাতেই ন্যাস্থ। কোচিং বাণিজ্য করতেই প্রতি বছর বিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সদস্য হন মোহসিন আলী। অভিযোগ উঠেছে, গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষায় তার কোচিংয়ের সব শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।

জিবন ও আনোয়ার হোসেন নামে দুই অভিভবক বলেন, তাদের ছেলে ভর্তি পরীক্ষায় ভালোভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার মতই মেধাবী কিন্তু মোহসিনের কোচিংয়ে না দেয়ার কারণে অপেক্ষমান তালিকায় তাদের রাখা হয়েছে। তাদের দাবি দীর্ঘ ১২ বছর একই স্থানে থাকার সুবাদে তিনি এ অনৈতিক কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন।

লালমনিরহাট সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষক মোহসিন আলী তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো মিথ্যাচার দাবি করেন। তিনি বলেন, কোচিং সেন্টারটি তার নয়। ছোট ভাই মোকছেদুলের কোচিংয়ে মাঝে মধ্যে তিনি ক্লাশ নিতেন। ভর্তি পরীক্ষার সদস্য হিসেবে অনৈতিক কিছু করার সুযোগ নেই বলে তিনি দাবি করেন।

লালমনিরহাট সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভব শংকর জানান, মোহসিনের কোচিংয়ের বিষয়টি তার জানা নেই। কোন পরীক্ষায় অনৈতিক সুযোগ দেয়ার অভিযোগ উঠলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তার কোচিংয়ের বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

Pin It

Comments are closed.