লালমনিরহাটে জেলা রেজিষ্ট্রারের কীর্তি!

নিউজ ডেস্ক : লালমনিরহাটে এক নিকাহ রেজিষ্ট্রারের (কাজী) মৃত্যুর দীর্ঘ ৯ বছর পর বাল্যবিয়ের অভিযোগে লাইন্সেস বাতিলের আদেশ দিয়েছেন সিনিয়র সহকারী সচিব। এ ঘটনায় লালমনরিহাট জেলা জুড়ে আলোচনা-সমালোচরা ঝড় উঠেছে।

১৪ নভেম্বর ২০০৭ সালে জেলার আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিষ্ট্রার (কাজী) সুলতান আহম্মেদ এর বিরুদ্ধে আনীত বাল্যবিয়ে রেজিষ্ট্রার করার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়। তাকে কারণ দর্শানোর জন্য বলা হলেও অদ্যবধি কোন জবাব না দেয়ায় মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯ এর বিধি ১১ অনুযায়ী সুলতান আহম্মেদ নামীয় নিকাহ রেজিষ্ট্রারের লাইন্সেস বাতিলের আদেশ দেন আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব জি.এম. নাজমুছ শাহাদাৎ স্বাক্ষরিত এক পত্রাদেশে।

জানা যায়, ২০০৮ সালের ২৫জানুয়ারি ওই ইউনিয়নের নিকাহ রেজিষ্ট্রার (কাজী) সুলতান আহম্মেদ মারা যান। তিনি মারা যাওয়ার পর তৎকালীন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম দুর্গাপুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিষ্ট্রার (কাজী) হিসেবে সুলতান আহম্মেদের পুত্র মাহমুদুল হাসানকে নিয়োগ দেন। তখন থেকে অদ্যবধি তিনি নিকাহ রেজিষ্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অথচ লালমনিরহাট জেলা রেজিস্ট্রার সরকার লুৎফর কবীর স্বাক্ষরিত এক আদেশে বলা হয়, মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯ এর ১৭(৪) উপবিধি মোতাবেক দুর্গাপুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিষ্ট্রারের পদটি শুন্য ঘোষনা করে ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের নিকাহ রেজিষ্ট্রার (কাজী) এজাজুল ইসলামকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে দুর্গাপুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিষ্ট্রার মাহমুদুল হাসান বলেন, আমার পিতা মরহুম সুলতান আহম্মেদ ১৯৭৪ সালে নিকাহ রেজিষ্ট্রার লাইন্সেস প্রাপ্ত হইয়া দুর্গাপুর ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকাকালীন ২৫ জানুয়ারি ২০০৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর জেলা রেজিষ্ট্রারের অফিস আদেশে দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের নিকট থেকে তার মৃত্যুর সনদ সংগ্রহ করেন এবং ওই ইউনিয়নের নিকাহ রেজিষ্ট্রারের পদটি শুন্য ঘোষণার পর সরকারকে অবগত করেন। উক্ত শুন্যপদে মৃত নিকাহ রেজিষ্ট্রার (কাজী) সুলতান আহম্মেদের পুত্র মাহমুদুল হাসানকে নিয়োগ দেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক। তখন থেকে অদ্যবধি নিকাহ রেজিষ্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

মাহমুদুল হাসান আরও বলেন, লালমনিরহাট জেলা রেজিস্ট্রার আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিবের স্বাক্ষরিত পত্রটি যাচাই বাছাই না করে তড়িঘড়ি করে ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের নিকাহ রেজিষ্ট্রার (কাজী) এজাজুল ইসলামকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, যে ব্যক্তি ২০০৮সালের ২৫জানুয়ারি মারা যান, সেই ব্যক্তির লাইন্সেস ২০০৯ সালের জারিকৃত আইন অনুযায়ী ২০১৬ সালে কিভাবে বাতিল করা যেতে পারে? কি অদৃশ্য কারণ আছে যে জন্য লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে ।

এ ব্যাপারে লালমনিরহাট জেলা রেজিস্ট্রার সরকার লুৎফর কবীর জানান, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে মৃত কাজীর লাইন্সেস বাতিল করা হয়েছে। সচিবের স্বাক্ষরিত পত্রটি যাচাই করা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি তা কৌশলে এড়িয়ে যান।

Pin It

Comments are closed.