লালমনিরহাটে ও.এম.এসের আটা বিক্রিতে অনিয়ম

আসাদুল ইসলাম সবুজ :: লালমনিরহাটে ও.এম.এসের আটা বিতরন জনবান্ধব কর্মসূচীর নামে চলছে টাকা বান্ধব কর্মসূচীর অভিযোগ উঠেছে। তাই বর্তমান সরকারের অন্যতম যুগান্তকারী জনবান্ধব পদক্ষেপ জেলা ও উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাদের কারণে বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ন্যায্য মূল্যে ও.এম.এসের আটা বিক্রি কর্মসূচীতে সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছে প্রায় ১৮০০ পরিবার।

জেলা খাদ্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আঃ সালাম মিয়াসহ ও.সিএল.এস.ডি, এল.এস.ডি ও টি.সি.এফ এর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জেলা খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, খাদ্য অধিদপ্তর পরিচালিত লালমনিরহাট জেলা শহরের পৌরসভাধীন ৯টি ওয়ার্ডে দরিদ্র পরিবারের মাঝে ন্যায মূল্যে আটা বিতরণের জন্য ১২জন ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়। সপ্তাহের রোব, সোম, মঙ্গল, বুধ, বৃহঃ ও শুক্রবার আটা বিতরণের জন্য ১জন ডিলারকে প্রতিদিন ৭৫০ কেজি আটা বরাদ্দ দেয়া হয়। ১৭ টাকা কেজি দরে মাথাপিচু ৫কেজি সপ্তাহে ৬দিন সকাল ৯টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ও. এম. এস এর আটা বিক্রি হচ্ছে। এসব আটা ন্যায মূল্যে দেওয়ার জন্য জেলা খাদ্য বিভাগ ৭টি মিল মালিকের সাথে চুক্তি বন্ধ হন। কমিশন ভিত্তিক কাগজপত্রে ৭টি মিলকে সচল দেখানো হলেও বাস্তবে ৪টি মিলের কোন অস্তিত্ব নেই।

অস্তিত্বহীন মিলারদের কাছে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময় তাদের নিকট থেকে আটা সংগ্রহ করেন খাদ্য বিভাগ। অস্তিত্বহীন এসব মিলাররা তাদের ফøাওয়ার মিলের নাম ও মনোগ্রাম লেখাযুক্ত বস্তায় সচল মিলে নিয়ে আটা ভরিয়ে ডিলারদের নিকট সরবরাহ করে থাকেন। অপরদিকে ১জন ডিলারকে প্রতিদিন ৭৫০ কেজি আটা বরাদ্দ সকাল ৯টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ও. এম. এস এর আটা বিক্রি নিয়ম থাকলেও তা বেলা ১/২টার মধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়। একজন ডিলার ৭৫০কেজি আটা ১৫০জনের মাঝে বিতরনের জন্য কাগজ-কলমে বলা হলেও নাম মাত্র ৩০/৪০জনের মাঝে বিতরন করে দোকানের দরজা বন্ধ করে ১৫০জনের নাম তালিকা প্রস্তুত করা হয়। একই নাম প্রতিদিন ব্যবহার করে ডিলারদের নিয়োজিত ব্যক্তিরা দু’হাতে নিজেই টিপসহি করেন। বেশি ভাগ ভুয়া নাম দিয়ে মাষ্টাররোল তৈরি করে কালোবাজারে আটা বিক্রি করা হয়। সঠিক পরির্দশনও করা হয় না।

মিল মালিকরা জানান, প্রতি টন গমে সরকার প্রদত্ত মিলের মজুরী ২হাজার ও ডিলারদের কমিশন ১হাজার নির্ধারন করেন। অথচ যে অফিসের জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক থেকে শুরু করে পিয়ন পর্যন্ত দুর্নীতিবাজ। তারা টাকা ছাড়া কোন কাজেই করেন না। টন প্রতি একজন মিলারকে ঘুষ-লেনদেন করতে হয় যেমন, পরিচালক বিতরণ ২শত টাকা, বিভাগীয় খাদ্য কর্মকর্তা ১শত টাকা, জেলা খাদ্য কর্মকর্তা ৩শত ৫০ টাকা, ও.সিএল.এস.ডি ১শত টাকা, এল.এস.ডি খরচ ১শত টাকা, টি.সি.এফ ১শত টাকা ও টি.সি.এফ সহকারী ৫০টাকা ও অন্যন্যা বকসিস ২শত টাকা। এতে ২হাজার টাকার মোট ১২শত টাকা অফিশিয়াল ঘুষ দিয়ে মিলারের টিকে মাত্র ৮শত টাকার উপর রয়েছে বিদ্যুৎ ও শ্রমিক খরচ। মিল চালু করে খাদ্য বিভাগে একবার ঢুঁকে চুক্তি করলে, পড়ে মিল বন্ধ থাকলেও সমস্যা হয় না। কারণ হল ওইসব দপ্তরে টাকা দিলে সবেই ঠিকঠাক হয়ে যায়।

ডিলাররা জানান, টন প্রতি একজন ডিলারকে ঘুষ-লেনদেন করতে হয় যেমন, জেলা খাদ্য কর্মকর্তা ৩শত টাকা, পরিদর্শক ১শত টাকা ও অন্যন্যা বকসিস ১শত টাকা। নির্ধারিত ঘুষ লেন-দেন সমন্বয়কারী একজন পুরাতন হিসাবরক্ষক এর মাধ্যমে কাজ শুরুতে আবার সাপ্তাহিক, অনেক সময় মাস শেষে চুড়ান্ত বিল উত্তোলনের আগে সমুদয় ঘুষের টাকা প্রদান করতে হয়।

নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক একজন ও.এম.এসের ডিলার জানান, ন্যায্য মূল্যের আটার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক থেকে যারা ও.এম.এসের আটা বিতরনের দায়িত্বে রয়েছেন তারা সবাই দুর্নীতিবাজ। তারা টাকা ছাড়া কোন কাজেই করেন না। সরকারী ভাবে যে কমিশন পাওয়া যায়, সেটি জেলা খাদ্য কর্মকর্তাদের ঘুষ দিতে শেষ হয়। এতে যা থাকে তাতে কিভাবে ডিলারি চলে। কালো বাজারে আটা বিক্রি ছাড়া তো উপায় নেই।

এ ব্যাপারে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আঃ সালাম মিয়া বলেন, আমরা কোন অনিয়ম বা দুর্নীতি করছি না। কমিশন ভিত্তিক কাগজপত্রে ৭টি মিলকে সচল দেখানো হলেও বাস্তবে ৪টি মিলের কোন অস্তিত্ব নেই, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

Pin It

Comments are closed.