লালমনিরহাটে ওয়ালটনের নকল পন্যসহ ব্যবসায়ী আটক

নিউজ ডেস্ক : লালমনিরহাটের পাটগ্রাম বাজারের ব্যবসায়ী রহমান ইলেক্ট্রনিক্স এর মালিক আব্দুর রহমানকে ওয়ালটনের নকল পন্যসহ আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধার পরে ঢাকা থেকে আগত আইনজীবি ও ওয়াল্টন কোম্পানীর এমডি পুলিশের সহযোগিতায় আব্দুর রহমানকে তার দোকান থেকে আটক করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাটগ্রাম বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী জামান, এক সময়ের মুদি দোকানদার আব্দুর রহমান বর্তমানে কোটিপতি ব্যবসায়ী। আভা সুজ স্যান্ডেলের দোকান বাদ দিয়ে তিনি শুরু করেন ওয়ালটনের পণ্যের ব্যবসা। তার শ্বশুর ও শ্যালক লালমনিরহাটে ওয়ালটনের ডিলার/ এজেন্ট। সেখান থেকে তিনি ফ্রিজ, টিভি, মোটরসাইকেল, রাইচকুকার, ভোল্টেজ স্টাপলাইজারসহ বিভিন্ন পণ্য এনে নগদ ও বাকীতে ব্যবসা শুরু করেন।

তার টার্গেট ছিলো ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ও চাকুরীজীবি। মাসিক তিন কিস্তিতে মূল্যছাড় ও এক কালীন ক্যাশে বিশেষ সুবিধা কথা বলে তিনি ওয়ালটনের ফ্রিজের আসল দামের সাথে বাড়তি ১০-১১ হাজার টাকা যোগ করে মুল্য নেন।

গত ৫ বছরে তিনি প্রায় ৫ শত ফ্রিজ বিক্রি করেন। প্রতি ফ্রিজে ১০-১২ হাজার টাকা অতিরিক্ত লাভে তিনি প্রায় কোটি টাকা কামিয়ে নেন।

এরপর শুরু করেন যমুনার ফ্রিজের ব্যবসা কিন্তু শো রুমের উপরে থেকে যায় পুর্বের ওয়ালটনের সাইনবোর্ড ও লাইট বিলবোর্ড।

সম্প্রতি পাটগ্রামে ওয়ালটনের নিজস্ব শো রুম হওয়ার কারনে ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ ভিতরে ভিতরে রহমান ইলেক্ট্রনিক্স এর উপর নজরদারী শুরু করেন। ওয়ালটনের ঢাকা অফিস থেকে তদারকির একপর্যায়ে গত ২৭ জানুয়ারী তাদের লোক রহমান ইলেক্ট্রনিক্সে একটি ভোল্টেজ স্টাপলাইজার ২৪০০ টাকায় কিনে রশিদ- মেমো নেন।

সোমবার রাতে কোম্পানির এমডি আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে নকল মাল তৈরী করে ওয়ালটনের লেবেল লোগো ব্যবহার, কোম্পানীর সুনাম নষ্ট, গ্রাহকের সঙ্গে ডিজিটাল প্রতারণার অভিযোগ এনে থানায় অভিযোগ করেন।

ফলে সোমবার সন্ধার পরে পুলিশ আব্দুর রহমানকে তার দোকান থেকে নকল পণ্যসহ আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এসময় তার দোকান থেকে ৭ টি নকল ভোল্টেজ স্টাপলাইজার জব্দ করেন পুলিশ। যেগুলো তার বাসায় ও লালমনিরহাটে শ্বশুর বাসায় ৫শত টাকা খরচে তৈরী করে দোকানে ২৪ শত টাকা বেচা হয়। এতে ওয়ালটনের পন্যের মান নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

আব্দুর রহমান ওয়ালটন পন্যে কোটি টাকা কামিয়ে বিভিন্ন স্থানে কম দামে জমি কিনে এখন প্লট কেনাবেচার ব্যবসা শুরু করেন। বাসাবাড়ি একাধিক জায়গায় করলেও তার বিরুদ্ধে সঠিক আয়কর প্রদান না করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও এলাকায় তিনি বিশিষ্ট সুদারু নামেও পরিচিত।

পাটগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানান, আব্দুর রহমানকে থানা হাজতে রাখা হয়েছে এবং ওয়ালটন কোম্পানীর পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

Pin It

Comments are closed.