লালমনিরহাটে অজ্ঞাত কারণে দুবছর থেকে সরকারী বেসরকারী পাট ক্রয় বন্ধ

পাটের কাঙ্খিত মূল্য পেতে লালমনিরহাটে বন্ধ পাট ক্রয় কেন্দ্র চালুর দাবী জানিয়েছে কৃষকরা। লালমনিরহাটে সরকারী বা বেসরকারী ভাবে পাট ক্রয় গত দুবছর থেকে অজ্ঞাত কারণে বন্ধ রয়েছে।বর্তমানে পাটের বাজার মূল্য চড়া হলেও লালমনিরহাটের কৃষকগন কমদামে বাজারে ফড়িয়াদের কাছে তাদের উৎপাদিত পাট বিক্রয় করছে।এর ফলে কৃষকগন একদিকে কম দামে বিক্রি করছে আবার ওজনেও প্রতারিত হচ্ছে।

জেলা পাট অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে লালমনিরহাটে ১৩হাজার ১শ’৫০ একর জমিতে পাট চাষ হয়েছে।সঠিক সময়ে বীজ রোপন ,সঠিক পরিচর্যা আর আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুকূলে থাকায় লালমনিরহাটে এবার পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। এবারে জেলায় ৪৫ হাজার চারশ জন চাষী পাট চাষ করেছেন। আর পাট উৎপাদিত হয়েছে ১১হাজার ৬৩২ মেট্রিক টন। (৬৪ হাজার ২শ’৬৩ বেল)।

এবার পাটের দাম বাজারে ভালো থাকায় লালমনিরহাটের পাট চাষী গন জাত ভেদে প্রতি মন পাট ষোলশ টাকা থেকে সতেরশ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছেন। অথচ পাট ক্রয় কেন্দ্র চালু থাকলে তারা মন প্রতি আরো তিন থেকে চারশ টাকা বেশি দরে বিক্রি করতে পারতেন।

সদরের রাজপুর গ্রামের পাট চাষী সফর আলী,ভেলাবাড়ী এলাকার মোতালেব হোসেন ও মহেন্দ্রনগরের রফিকুল হক বলেন,বাজারে ফড়িয়াদের কাছে পাট বিক্রি করলে সঠিক সময়ে টাকা পাওয়া যায়না আর ওজনেও কারচুপি করে।ফলে আমরা আর্থিক ভাবে ক্ষতির সম্মুক্ষিন হই।তাছাড়া অনেক সময় হাটে নেয়া পাট বিক্রির নিশ্চয়তাও থাকেনা।

জেলার বড়বাড়ী বাজারের ক্ষুদ্র পাট ব্যবসায়ী মহির উদ্দিন বলেন,পাটের ক্ষেত্রে যেহেতু সরকার নির্ধারিত কোন দর নাই তাই আমরা অনুমানের ওপর পাট ক্রয় করি। আমরা গ্রামের হাট বাজার থেকে যেসব পাট কিনি। সেগুলো বিক্রয়ের জন্য কোন নির্দিষ্ট ক্রয় কেন্দ্র নাই। এক্ষেত্রে আমাদের লোকসান হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকে।

লালমনিরহাটের বিশিষ্ট পাট ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম দুলাল বলেন, জেলার কালিবাড়ীতে খালিশপুর জুট মিল্স লিমিটেডের একটি ক্রয় কেন্দ্র ছিল। কিন্তু গত দুবছর হলো তারা আর পাট কিনতে লালমনিরহাটে আসেননা। ফলে ক্রয় কেন্দ্রটি বন্ধ রয়েছে। তবে এটি চালু থাকলে কৃষকগন ভালো দামেই পাট বেঁচতে পারেন।

লালমনিরহাট পাট অধিদপ্তরের মূখ্য পরিদর্শক মহাফেজ উদ্দিন জানান, ২০১৪ সালের জুন মাসে আকস্মিকভাবে বন্ধ হয়ে যায় লালমনিরহাটে সরকারী ও বেসরকারীভাবে পরিচালিত পাট ক্রয় কেন্দ্র গুলো। এসব পাট ক্রয় কেন্দ্র চালু থাকলে কৃষকগন তাদের উৎপাদিত পাটের ন্যায্য মূল্য পেত আর ওজনেও প্রতারিত হতো না। আর পাট ক্রয় কেন্দ্র না থাকার ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পাট ক্রয়ের লাইসেন্স করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছে। যেখানে দুই বছর আগে পাট ক্রয়ের লাইসেন্স ধারীর সংখ্যা ছিল ২শ৫৮টি আর তা কমে গিয়ে বর্তমানে নেমে এসেছে ১শ৩০টিতে।ফলে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। আর অন্য দিকে কৃষকরা কম দামে পাট বিক্রয় করে ঠকছেন।

জেলার পাট চাষী ও ব্যবসায়ীদের দাবী অবিলম্বে সরকারী বা বেসরকারী ভাবে জুট মিল গুলোর মাধ্যমে বন্ধ হয়ে যাওয়া ক্রয় কেন্দ্র গুলো পূনরায় চালু করলে কৃষকদের পাট চাষে আগ্রহ বেড়ে যাবে।

Pin It

Comments are closed.