রৌমারীতে ১৩ গরু আটকের ঘটনায় বিজিবির বিরুদ্ধে মামলা

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে বিজিবি জোয়ান কর্তৃক সীমান্তের প্রায় ৬ কিলোমিটার অভ্যন্তরে ১৩টি বাছুর গরু আটকের ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ রবিবার ওই ১৩ গরুর মালিক বাদী হয়ে কুড়িগ্রামে রৌমারী সহকারি জজ আদালতে কোম্পানী কমান্ডারসহ চারজনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছে।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রৌমারী কোম্পানী সদর ক্যাম্পের জোয়ানরা রৌমারী-রাজীবপুর সড়কের চাকতাবাড়ি এলাকা থেকে ওই ১৩ বাছুর গরু আটক করে কাস্টম অফিসে জমা দেয়। আজ রবিবার কাস্টম অফিস ওই ১৩ গরু নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নেয়। কিন্তু আদালতের নোটিশ পাওয়ার পর আর নিলামে বিক্রি করতে পারেনি।

ওই ১৩ গরুর গরু ব্যবসায়ি নুর মোহাম্মদ, কান্দু মিয়া, আব্দুল খালেক, মোসলেম উদ্দিন ও আব্দুল হামিদ অভিযোগ করেন, গত ১৭ আগস্ট কর্তিমারী হাটবাজার থেকে গরু গুলো কেনার পর গত শুক্রবার রৌমারী হাটে বিক্রির জন্য নেওয়ার পথে বিজিবি জোয়ানরা তা ছিনিয়ে নেয়। গরু কেনার রশীদ বা চালানপত্রও ছিনিয়ে নিয়ে বিজিবি জোয়ানরা আমাদের নানা রকম ভয়ভীতি দেখায়। আমাদের বৈধ কাগজপত্র ও দেশি গরু হলেও বিজিবি সদস্যরা অবৈধ ভাবে আমাদের কাছ থেকে গরুগুলো ছিনিয়ে নিয়েছে। এ ব্যাপারে আমরা আদালতে হাজির হয়ে রৌমারী কোম্পানী সদরের কমান্ডার কাজী রফিকুল ইসলামসহ জোয়ানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করি।

এদিকে বিজিবির হাতে ওই ১৩ বাছুর গরু আটক নিয়ে এলাকার গরু ব্যবসায়ী ও হাট ইজারাদারদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কর্তিমারী হাটবাজার ইজারাদার আবুল হোসেন বলেন, ‘ওই ব্যাপারীরা আমার হাট থেকে গরু গুলো ক্রয় করেছিল। তাদের সঙ্গে হাটের চালানপত্রও ছিল কিন্তু বিজিবি জোয়ানরা গায়ের জোরে ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে গরুগুলো ছিনিয়ে নেয়। অনেক টাকায় হাট ইজারা নিয়েছি। বিজিবি জোয়ানরা যদি ওই অবৈধ তৎপরতা চালায় তাহলে হাটে গরু ক্রেতা-বিক্রেতা কমে যাবে। আমি ক্ষতিগ্রস্ত হব। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে।’

এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য রুহুল আমিন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ওই বাছুর গুলো ভারতীয় নয়। এগুলো বাংলাদেশি। তাছাড়া সীমান্তের অনেক ভিতরের স্থান থেকে বিজিবি জোয়ানরা পরিকল্পিত ভাবে গরুগুলো আটক করেছে। এটা মোটেও ঠিক করেননি তারা। চলতি আগষ্ট মাসের ১৮ তারিখে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে বিজিবি জোয়ানদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় সীমান্ত অতিক্রম করার পর কোনো গবাদিপশু ধরা পড়ে তা করিডর করে ছেড়ে দেওয়ার জন্য। এ কারণে বিজিবি জোয়ানরা উদ্দেশ্যমূলক ভাবে অবৈধ ভাবে ওই গরু গুলো ধরেছে বলেই আমার মনে হচ্ছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে রৌমারী কোম্পানী সদরের কমান্ডার সুবেদার কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ওই গরু গুলো ভারতীয়। ঝাউবাড়ি সীমান্ত গলিয়ে অবৈধ ভাবে নামানো হয়েছে। কর্তিমারী হাটের যে চালান বা রশীদ অবৈধ ভাবে নেওয়া হয়েছে।’

মামলা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আদালতের কোনো নোটিশ আমরা পাইনি। পাওয়ার পর আমাদের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Pin It

Comments are closed.