রহস্যটা থেকেই গেল

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না :: লালমনিরহাটের পাটগ্রামে একটি পুকুরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন, কি এমন আছে পুকুরে? হাজার হাজার মানুষ ঘন্টার পর ঘন্টা পুকুর পাড়ে দাঁড়িয়ে সৃষ্ট এই রহস্য নিয়ে বলছেন নানান কথা।

শুক্রবার সকালে উপজেলার বাউরা ইউপি সংলগ্ন বাউরা দাখিল মাদ্রাসার পুকুরটিকে ঘিরে রহস্যের জন্ম দেন স্থানীয় জেলেরা। সকাল ১০টার দিকে তারা ওই পুকুরে মাছ ধরার জন্য জাল টানতে শুরু করে। হঠাৎ পুকুরের মাঝ পথে তাদের জাল আটকে যায়। পরে তারা দেখতে পান পুকুরের মাঝে মানুষের মাথা সদৃশ্য কালো চুলের কিছু একটা! প্রাণভয়ে দ্রুত তারা পুকুর থেকে উঠে পড়েন।

এরপর পুকুর পাড়ে দাঁড়িয়ে লক্ষ্য করেন পুকুরের মাঝখানে বিশাল আকারের বুদবুদ উঠছে। সাথে সাথে জালটি টান দিলে জালটিও ছিড়ে আসে। শুরু হয় রহস্য, শুরু হয় জনসমাগম, এক ঘন্টার মধ্যেই হাজার হাজার মানুষ ওই পুকুর পাড়ে জড়ো হয়। আলোচনা করতে থাকেন সবাই কি এমন আছে পুকুরের মাঝে ? আলোচনার এক পর্যায়ে সকলের মধ্যে শুরু হয় রহস্য উদঘাটনের চিন্তা-চেষ্টা।

হঠাৎ নায়কের মতো সুদূর আলাউদ্দিন নগর থেকে ছুটে আসা এক যুবক জেলেদের ব্যবহৃত ওই জাল নিয়ে নেমে পড়েন পুকুরে, সাথে স্থানীয় কয়েকজন যুবক। শিহরিত হয়ে উৎসুক মানুষ অপেক্ষা করতে থাকে রহস্যের শেষটা দেখার জন্য।

প্রায় দুই ঘন্টা পর রহস্যের উন্মোচন হল, তবে ‘শেষ হয়েও যেন হলো না শেষ’। রহস্যটা থেকেই গেল। তাদের জালে কোন কিছুই ধরা পড়ল না। কিন্তু পুকুরের মাঝে বুদবুদটা রয়েই গেল!

বাউরা ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা সদস্য ফুলজান বেগম বললেন, বুঝতে পারছি না, আসলে বিষয়টি ঠিক কী। তারপরেও পুকুরের রহস্যটা উৎঘাটন প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

পুকুরের ইজারাদার জসিম মিয়া বললেন, বিষয়টি আমিও ঠিক বুঝতে পারছি না। অনেক বছর ধরে পুকুর ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করছি কোনদিন এমনটি ঘটেনি।

রহস্য উৎঘাটনে ছুটে আসা ওই যুবকের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমি বড়খাতার ভাংগা মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায়ের জন্য যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে জানতে পারি এই পুকুরটিকে ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। ইচ্ছে জাগল, কী আছে এখানে একটু দেখে যাই। তাই সাথে কয়েকজস যুবককে নিয়ে নেমে পড়লাম পুকুরে। কিন্তু কিছুই পেলাম না, বলে মৃদু হাসলেন। এরপর তিনি জুম্মার নামাজ পড়ার জন্য ভাংগা মসজিদের দিকে মোটরবাইক হাকালেন।

Pin It

Comments are closed.