ভোগান্তির অপর নাম লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক

অনলাইন ডেস্ক :: ঈদে ঘরমুখো মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে লালমনিরহাট বুড়িমারী মহাসড়কের মাত্র কোয়ার্টার কিলোমিটার পথ। মাত্র ৫ মিনিটের পথ। অথচ রাজ্যের সব কাদা মাড়িয়ে যেতে সময় লাগছে প্রায় দুই ঘণ্টা।

পুরো দেশ ঘুরে এসেও ঈদে ঘরমুখো মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন নিজ এলাকায় এসে। নামে ‘জাতীয় মহাসড়ক’ হলেও দেখে বোঝার উপায় নেই যে, এটা আসলে কোন সড়ক! যানবাহন তো দূরের কথা, লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা ব্র্যাক অফিস থেকে স্বর্ণামতি ব্রিজ পর্যন্ত পায়ে হেঁটে যাওয়াই দুষ্কর। পায়ে হেঁটে মাত্র ৫ মিনিটে অতিক্রম করার কথা এটুকু পথ। অথচ রাস্তা এতোটাই খারাপ যে, ৫ মিনিটের পথটুকু পেরোতে যানবাহনগুলোর এখন লেগে যাচ্ছে দুই/আড়াই ঘন্টা।

জানা গেছে, লালমনিরহাট বুড়িমারী মহাসড়কটি সংস্কার করতে দরপত্র অনুযায়ী কাজ শুরু করে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। গত চার মাস ধরে কাজ চলছে আদিতমারী উপজেলার অংশে।পুরাতন কংক্রিট তুলে নতুন করে বসানোর কথা কংক্রিট। সেজন্য খুঁড়ে ফেলা হয়েছে সড়কটি। আর তাতেই বৃষ্টির পানি জমে তৈরি হয়েছে গোড়ালিসমান কাদা আর অসংখ্য গর্ত। ফলে যানবাহন তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটেও যাওয়ার উপায় আর নেই। এমন নারকীয় অবস্থার মধ্যেও ভারী যানবাহনগুলো একে একে পার হতে হচ্ছে পথ নামের এই ‘পুলসিরাত’। এখানে যে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজটের তা এক কথায় অসহনীয়। গাড়ির চাকা এখানে একদমই চলে না। ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের তাই এই ‘পাঁচ মিনিটের পথে’ গাড়িতেই বসে থাকতে হচ্ছে ঘন্টার পর ঘন্টা।

একদিকে বৃষ্টি, অন্যদিকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটির কাজের মন্থরগতি—এই দুয়ে মিলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এ মহাসড়কের ওপর দিয়ে যাওয়া হতভাগ্য যাত্রীরা।

এছাড়া সড়কের সংস্কারের নামে যে কাজ হচ্ছে, সেই কাজের মান নিয়েও এলাকাবাসীর রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। পুরাতন কংক্রিট তুলে নতুন করে দেয়ার কথা থাকলেও দেয়া হচ্ছে নিম্নমানের বাজেয়াপ্ত সব পাথর। বালু দেয়া কথা থাকলেও মাটি দিয়ে ঢেকে দেয়া হচ্ছে। ফলে সামান্য বৃষ্টির পানিতেই কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে এই সড়ক। রাতে আঁধারেও চলে এ সড়কের সংস্কারকাজ। মহাসড়কের দুই পাশ মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে। সেই মাটি আবার সড়কের নিচের মাটি। যা সামান্য বৃষ্টিতে ধুয়ে নিচেই পড়ে যাচ্ছে।

আব্দুর রহিম নামে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, বাজেয়াপ্ত পুরাতন কংক্রিট দিয়ে রাতের আঁধারে কাজ করায় স্থানীয় লোকজন বাধা দিয়েছিলেন। কিন্তু ঠিকাদার পুলিশ পাঠিয়ে উল্টো এলাকাবাসীকে মামলার ভয় দেখিয়েছে। এরপর এলাকাবাসী আর প্রতিবাদ করেনি। ঠিকাদার তার ইচ্ছামত কাজ করছে। কাজ তদারকি করার জন্য কোনো কর্মকর্তা কাজের সময় থাকেন না।

ট্রাকচালক আব্দুল হাই জানান, এটুক রাস্তা পাড় হতে এক দেড় থেকে দু’ঘণ্টাও লেগে যায়। বড় বড় গর্তে পড়ে প্রায় সময়ই ট্রাক/বাস বিকল হচ্ছে। এ সড়কে ট্রাক পাঠাতেও চান না মালিকরা।

বাসচালক রশিদ মিয়া জানান, এ মহাসড়ক হচ্ছে মৃত্যুফাঁদ। পুরো বছরই কোনো না কোনো স্থানে একটা না একটা সমস্যা লেগেই থাকে।

পাঁচ মিনিটের এটুকু পথ পেরোনোর জন্য দুই/আড়াই ঘন্টা ধরে অপেক্ষা করছিলেন তিনি।

লালমনিরহাট সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান জানান, আইন সংশোধন করার কারণে এ মহাসড়কের জন্য ২/৩ বার পুন:দরপত্র করতে হয়েছে। এজন্য কাজ শুরু হয়েছে কিছুটা বিলম্বে। আর এ বছর বৃষ্টিও আগেভাগে শুরু হওয়ায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

নিম্নমানের কাজের বিষয়ে তিনি বলেন, শুরুতে বালুর মান নিয়ে সমস্যা ছিল। তা এখন আর নেই। সংস্কারকাজ চললে যাত্রীদের কিছুটা কষ্ট হবেই। এটুকু কষ্ট মেনে নিতে হবেই। সূত্র: বাংলানিউজ

Pin It

Comments are closed.