বেগম রোকেয়া দিবস আজ

নিউজ ডেস্ক :: আজ ৯ ডিসেম্বর বেগম রোকেয়া দিবস। বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার ১৩৭তম জন্ম এবং ৮৫তম মৃত্যুবার্ষিকী।

দিনটি উপলক্ষে ঢাকা ও রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নানা আয়োজন করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বাণীতে বেগম রোকেয়ার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে নারী সমাজকে আত্মোন্নয়নে ব্রতী হওয়ার আহ্বান জানান।

রোকেয়ার জন্মস্থান মিঠাপুকুর পায়রাবন্দে আজ থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী মেলা। মেলাকে ঘিরে আলোকিত হয়ে উঠছে পায়রাবন্দ। রোকেয়া স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হবে।

সকাল ১০টায় পায়রাবন্দ জামে মসজিদে মিলাদ মাহফিল ও বিকেল ৪টায় রোকেয়া মেলার উদ্বোধন করা হয়। রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কাজী হাসান আহম্মেদ মেলার উদ্বোধন করেন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় তিন দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ, মিলাদ মাহফিল, স্বেচ্ছায় রক্তদান, রোকেয়ার জীবনী নিয়ে আলোচনা, মেলা, চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতা, কবিতা আবৃত্তি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ।

দিবসটি উপলক্ষে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রংপুর রোকেয়া ফোরামসহ রংপুরের বিভিন্ন সংগঠন র্যা লি, বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্নয়, মিলাদ মাহফিল, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেডিক্যাল সেন্টারে ওষুধ হস্তান্তর করাসহ আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।

এদিকে বেগম রোকেয়ার জন্মস্থান পায়রাবন্দকে পর্যটন কেন্দ্র ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। একইসঙ্গে রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র চালুসহ কলকাতা থেকে বেগম রোকেয়ার সমাধী পায়রাবন্দে আনার দাবিও জানিয়েছেন তারা।

বেগম রোকেয়া ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুরের পায়রাবন্দ গ্রামে জন্ম নেন। সেসময় সমাজ ছিল নানাবিধ কুসংস্কার পূর্ণ। রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করে তিনি নারী জাগরণের অগ্রদূতের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ঊনবিংশ শতাব্দীর এই খ্যাতিমান বাঙালি সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। বেগম রোকেয়ার উল্লেখযোগ্য রচনাগুলো হলো পিপাসা (১৯০২), মতিচূর (১৯০৪), সুলতানার স্বপ্ন (১৯০৮), সওগাত (১৯১৮), পদ্মরাগ (১৯২৪) ও অবরোধবাসিনী (১৯৩১)।

Pin It

Comments are closed.