বিড়িতে উচ্চ কর আরোপে সরকার দলীয় এমপির ক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক :: ধূমপানে নিরুৎসাহিত করতে হলে শুধু বিড়ি নয়, সিগারেটের ওপরেও উচ্চ হারে কর আরোপ করতে হবে। তা না হলে ২২ লাখ বিড়ি শ্রমিক অকাল মৃত্যুবরণ করবে বলে জানিয়েছেন লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মো. মোতাহার হোসেন।

মঙ্গলবার (২০ জুন) সকালে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

মোতাহার হোসেন বলেন, রংপুরের মানুষ হিসেবে বলতে চাই। রংপুরেই বেশি বিড়ি শ্রমিক রয়েছে। সারা দেশে প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ বিড়ি শ্রমিক রয়েছে। আমরা সবাই ধূমপান ‘ডিসকারেজ’ (নিরুৎসাহিত) করি। ধূমপান নিষিদ্ধকরণ করতে হবে। সিগারেটের ওপর আপনি কতো পার্সেন্ট ট্যাক্স ধরেছেন? বিড়ির ওপরে ২শ’ শতাংশ কর আরোপ করেছেন। তাহলে সিগারেটের ওপর ২শ’ শতাংশ হবে না কেনো? বিড়ি খাওয়া বন্ধ করবেন। আর সিগারেট খাওয়াকে উদ্ভুদ্ধ করবেন, এটা দ্বৈতনীতি। এটা বন্ধ করতে হবে।

তিনি বলেন, বিড়ি বিদায় করার আগে ২০ থেকে ২২ লাখ শ্রমিককে বিকল্প কাজের ব্যবস্থা করতে হবে। না হলে আমাদের বিড়ি শ্রমিকরা অকালে মৃত্যুবরণ করবে। যার ফলে উত্তরবঙ্গে একটা মহাদুর্ভিক্ষ দেখা দেবে।

শিক্ষাখাতে অর্থমন্ত্রী সুচতুরভাবে শুভঙ্করের ফাঁকি দিয়ে যাচ্ছেন বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী সুচতুরভাবে এই কাজটি করেছেন। উনি শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেখিয়েছেন ৬৫ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং মাধ্যমিক শিক্ষায় চার হাজার কোটি টাকা দিয়েছেন। আর ১৫ হাজার কোটি টাকা দিয়েছেন বিজ্ঞান প্রযুক্তি, যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে। তার মানে শিক্ষাতে উনি দেখিয়েছেন ৬৫ হাজার কোটি টাকা। বাস্তবে ৫০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছেন। এই শুভঙ্করের ফাঁকি প্রতি বছরই দিয়ে যাচ্ছেন। গত বছর প্রাথমিক গণশিক্ষা ও মাধ্যমিক শিক্ষার সঙ্গে ধর্মশিক্ষা যোগ দিয়েছিলেন। তার আগের বছর স্পোর্টস কাউন্সিল ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন। বরাদ্দ বেশি দেখান। বাস্তবে শিক্ষা খাত পেছনের দিকে হাঁটছে।

বাজেটে এমপিওভুক্তির জন্য বরাদ্দ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা ভোট আসলেই বলি ক্ষমতায় গেলে এমপিওভুক্ত করবো। কিন্তু এবারও বাজেটে সেই বরাদ্দ রাখা হয়নি। এমপিওভুক্তি আমাদের জন্য মরণব্যাধি। বাংলানিউজ

Pin It

Comments are closed.