বিদ্রোহীদের বসে যেতে চাপ দেবে না আ’লীগ

জেলা পরিষদ নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে যেতে বিদ্রোহী প্রার্থীদের কোনো চাপ দেবে না আওয়ামী লীগ। চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের বেলায় কোনো রকম জোরাজুরিও করা হবে না তাদের। তবে দলসমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা।

গতকাল শনিবার দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতাদের এক বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ সময় বলা হয়, বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীদের বসে যেতে অনুরোধ জানানো হবে। তবে তারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে সম্মত না হলে কোনো রকম চাপ দেওয়া হবে না। এক্ষেত্রে আগের কয়েকটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মতো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো হুঁশিয়ারিও দেওয়া হবে না।

বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন নেতা এমন সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করে আরও জানান, ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় ৬১টি জেলা পরিষদ নির্বাচনে ইতিমধ্যে ১২ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে গেছেন। যাদের সবাই আওয়ামী লীগ সমর্থিত। ১১ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনের আগে আরও কিছু জেলায় প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা রয়েছে। ওইসব জেলায়ও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে যেতে পারেন দলসমর্থিতরা। এ অবস্থায় চেয়ারম্যান পদে দল থেকে যেসব বিদ্রোহী প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, তাদেরও বসিয়ে দেওয়া হলে নির্বাচনের কোনো আমেজ যেমন থাকবে না, তেমনি স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে পারে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি ও তার মিত্ররাও এ নিয়ে ইস্যু পেতে পারে। এ কারণেই বিদ্রোহী প্রার্থীদের সরে যাওয়ার বিষয়ে দলের পক্ষে কোনো জোরাজুরি না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে নানা প্রচেষ্টা সত্ত্বেও জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার প্রবণতা ঠেকাতে পারেননি কেন্দ্রীয় নেতারা। গত বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন পর্যন্ত ৬১টি জেলা পরিষদের ৪১টিতেই বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেন। দলসমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ৮২ জন বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন।

এদিকে গতকালের এই বৈঠকে দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীদের পক্ষে মাঠে নামতে কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হওয়ার পর নির্বাচনী আইনের বাধ্যবাধকতা মেনে মন্ত্রী ও এমপি নন, দলের এমন কেন্দ্রীয় নেতারাই দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে নামবেন। এ জন্য বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের সমন্বয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের একাধিক টিম গঠনের আলোচনাও রয়েছে দলের মধ্যে।

দলের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে বৈঠকে কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে ড. আবদুর রাজ্জাক, মাহবুবউল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, আবদুর রহমান, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, মির্জা আজম, অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: সমকাল

Pin It

Comments are closed.