বিএনপির আশা যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে

গতকাল বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ঢাকায় আগত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করেছেন। বৈঠকশেষে বেগম জিয়ার বাসভবনের সামনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আশাবাদী, আমরাও আশাবাদী যে, মার্কিন সহযোগিতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নও হবে, একই সঙ্গে এখানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য এবং আইনের শাসনকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তারা বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ কাজ করতে আগ্রহী।
দলীয় চেয়ারপারসনের সঙ্গে এই বৈঠকে থাকা মির্জা ফখরুল বলেন,খালেদা জিয়ার সঙ্গে জন কেরি জঙ্গিবাদ, স্বাধীনতা, মানবাধিকার, আইনের শাসন নিয়ে আলোচনা করেছেন। এছাড়া আগামী নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে বিস্তারিত কি আলোচনা হয়েছে– তা বলতে রাজি হননি মির্জাফখরুল। তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।

তিনি বলেন, সংক্ষিপ্ত সফরে ঢাকায় আসা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্ করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এই সাক্ষাতে দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে খোলামেলা আলাপ হয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রেখে দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জন কেরি। পাশাপাশি দেশের সার্বিক উন্নয়ন, গণতন্ত্রের বিকাশ ও চর্চায় বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অতীতের মতো বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

গতকাল সোমবার ৮ ঘণ্টার সফরে ঢাকায় আসা জন কেরির সঙ্গে বিকালে বারিধারায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ভবনে গিয়ে দেখা করেন খালেদা জিয়া। ৩৫ মিনিট এই বৈঠক হয়। বিকাল ৪টায় গুলশানের বাসা থেকে মার্কিন দূতাবাসে রওনা দেন খালেদা জিয়া। পনেরো মিনিট পর বিকাল সোয়া ৪টায় দূতাবাসে প্রবেশ করেন তিনি। একই সময় পৃথক তিনটি গাড়িতে মার্কিন দূতাবাসে ঢোকেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ভাইস চেয়ারম্যান সাবিহ উদ্দিন আহমেদ। বৈঠক শেষে ৫টা ১০ মিনিটে মার্কিন দূতাবাস থেকে বের হন খালেদা জিয়া। এ সময় অপেক্ষমান সাংবাদিকরা তার গাড়িবহর ফলো করে গুলশান বাসা পর্যন্ত যান। সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মহাসচিব মির্জা ফখরুর ইসলাম আলমগীর।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাট প্রমুখ ।

কিছুক্ষণ বৈঠক চলার পর আলাদাভাবে খালেদা জিয়া এবং কেরি একান্তে বৈঠক করেন।-ইত্তেফাক

Pin It

Comments are closed.