বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষার হলে ছেলে

অনলাইন ডেস্ক :: বাবা আশরাফুল হকের (৫০) লাশ বাড়িতে রেখে একমাত্র ছেলে সাকিব আহমেদকে এসএসসি পরীক্ষার হলে যেতে হয়েছে। গতকাল সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে লালমনিরহাট সদর উপজেলায়।

মৃত আশরাফুল হক লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের নওদাবাস গ্রামের ভাষাসৈনিক জহির উদ্দিন আহমেদের তৃতীয় ছেলে। গত রোববার বিকেল ৪টায় নিজ বাড়িতে মারা যান তিনি। গতকাল সকাল ১০টায় বাড়ির উঠানে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় আশরাফুল হকের আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, গ্রাম ও আশপাশের এলাকার মানুষ অংশ নেন। তবে পরীক্ষা থাকায় তাঁর ছেলে সাকিব আহমেদ অংশ নিতে পারেনি। এ সময় সে সদর উপজেলার বড়বাড়ী হাবিবা খাতুন বালিকা উচ্চবিদ্যালয় পরীক্ষাকেন্দ্রে ইংরেজি (আবশ্যিক) প্রথম পত্রের পরীক্ষা দিচ্ছিল। সাকিব লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ী শহীদ আবুল কাশেম উচ্চবিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।

গতকাল পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সাকিব পরীক্ষার উত্তরপত্রে লিখছে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর সাকিব আহমেদ বলে, আমি হলাম সেই সন্তান যে তার বাবার জানাজায় অংশ নিতে পারেনি। বাবা আমাকে বলতেন, ‘আমি অসুস্থ মানুষ, যেকোনো সময় পৃথিবী থেকে বিদায় নেব। তুমি ভালোভাবে লেখাপড়া করে মানুষের মত মানুষ হবে”।’

সাকিবের মা আমেনা খাতুন বলেন, এক ছেলে ও এক মেয়েকে রেখে স্বামী আমাদের ছেড়ে চিরতরে চলে গেলেন। তিনি আমাকে বলতেন, ‘আমার যে অসুখ যেকোনো সময় মারা যাব, তুমি আমার সন্তানদের লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ কোরো’।

ভাষাসৈনিক জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘২০১৩ সালে আশরাফুলের বোনম্যারোর সমস্যাজনিত রোগটি ধরা পড়ে। ওর রক্ত বদলাতে হতো। আমরা সাধ্যমতো চিকিৎসা করেছি। আমি এখনো বেঁচে আছি আর আমার ছেলে চলে গেল, এটা যে কী বড় দুঃখ, তা আপনাদের বলে বুঝাতে পারব না। একসময় আমাদের আর্থিক অবস্থা অনেক ভালো ছিল, এখন তেমন নেই। চিন্তায় আছি নাতিগুলাকে কীভাবে মানুষ করব।’

পাশের বাড়ির সাহেবর হোসেন বলেন, ‘সাকিব ভদ্র ছেলে। পড়াশোনা নিয়েই থাকে। অতটুকু ছেলে যে ধৈর্য ধরে পরীক্ষার হলে ভালোভাবে পরীক্ষা দিয়ে বাড়িতে ফিরে এসেছে, সেটাই তার বাবাকে দেওয়া তার কথা রক্ষার সম্মান দেখানো বলে মনে করি।’ সূত্র: প্রথমআলো

Pin It

Comments are closed.