বাংলাদেশিরা সীমান্তে একটা বুনো হাতির দামও যদি পেত!

IMG_২০১৬০৮১০_০৩৪৯৫২

 
গত ২৭শে জুন বানের পানিতে ভেসে ভারতের একটি বুনো হাতি বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে। সে থেকেই আমাদের বন বিভাগের ব্যস্ত সময় কাটছে হাতিটিকে নিয়ে। বর্তমানে বন বিভাগের ১৭ জনের একটি টিম কাজ করছে হাতিটির পেছনে। আমাদের মিডিয়াও গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে বিষয়টি। একটা বিপদগ্রস্ত বন্য প্রাণীর জন্যে এ আয়োজনগুলো নিঃসন্দেহে দরকারি এবং প্রশংসার দাবিদার। অতএব এ ব্যাপারে কোন আপত্তি নয়।

তবে কৌতূহলের বিষয় হচ্ছে- আমাদের চরম বন্ধু রাষ্ট্র ভারতের কাছে বাংলাদেশের নাগরিকরা এরকম একটা বুনো হাতির সমান দামও কি পান? বিএসএফের গুলি খেয়ে কাঁটাতারে ফেলানির ঝুলন্ত লাশের ছবিটা আমরা একটু স্মরণ করি! কিংবা কল্পনা করি সে মুহুর্তটার কথা যখন ফেলানি ‘পানি’ ‘পানি’ করে চিৎকার করছিল আর তার অসহায় বাবা মৃত্যু পথযাত্রী মেয়ের জন্যে কিছুই করতে পারছিলেন না! কিংবা বাংলাদেশি যুবক হাবিবুর রহমানকে বিবস্ত্র করে বেধড়ক পেটানোর ভিডিও দৃশ্যের কথাটাই স্মরণ করি!

এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এই ধরণের ঘটনা নিত্য ঘটছে সীমান্তে। তবে মিডিয়ায় এসেছিল বলে এ দুটি ঘটনা আলোচনা তৈরি করেছে। আমাদের নাগরিকদের বাংলাদেশের সীমানা থেকে সম্পূর্ণ বিনা দোষে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করার বহু নজির রয়েছে। বাংলাদেশের বহু কৃষককে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গুলি করে মেরে ফেলা হয়েছে। বলা হয় সীমান্তে বাংলাদেশিরা অবৈধভাবে গরু পাচার ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। তাই তাদের গুলি করা হয়। কথাটা কোনো কোনো ক্ষেত্রে সত্য। তবে বেশ কিছু প্রশ্ন রয়েছে যেগুলোর কোনো সদুত্তর পাওয়া যায় না।

প্রশ্নগুলো হল- ভারতীয়দের সহযোগিতা ছাড়াই কি বাংলাদেশিরা গরু নিয়ে আসে? ভারতীয় নাগরিকেরা কি প্রত্যক্ষভাবে এর সঙ্গে জড়িত নন? গরু কি বিনামূল্যে বা চুরি করে নিয়ে আসা হয়? পাচারের সঙ্গে বিএসএফের কি কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই? ভারতীয়রা বাংলাদেশ থেকে কোনো কিছু কি পাচার করে না? বাংলাদেশের বাহিনী এর জন্যে কয়জন ভারতীয়কে গুলি করে মেরেছে? ধরলাম বাংলাদেশিরাই অপরাধী, পাচারকারী। কিন্তু সে জন্যে কি পাখির মত গুলি করে মেরে ফেলতে হবে? অন্যকোনো ব্যবস্থা কি নেই? ভারত কি আমাদের সবচেয়ে কাছের বন্ধু রাষ্ট্র নয়?

পাচারকারীদের নিবৃত করতে হিউম্যান হাইটের উপর দিয়ে গুলি করা যেতে পারে, আটক করা যেতে পারে, আটক করার জন্যে প্রয়োজনে পায়ে গুলি করা যেতে পারে। কিভাবে গুলি করলে একজন মানুষ সাথে সাথে মারা যাবে আর আটক করার উদ্দেশ্যে কিভাবে গুলি করতে হবে প্রত্যেক বাহিনীরই এ প্রশিক্ষণ থাকে। কিন্তু ভারতীয় বাহিনী মেরে ফেলা ছাড়া দ্বিতীয় কোনো অপশনের কথা কি কখনও ভাবে?

আমরা দেখি মাঝে মধ্যেই বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত বাহিনীর হাইকমান্ডের মধ্যে এ ব্যাপারে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষ হওয়ার পর প্রতিবারই নিয়ম করে ভারতীয় বাহিনীর কর্মকর্তা যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেন- ‘সীমান্ত হত্যা বন্ধ হয়ে যাবে’ কিংবা ‘কমিয়ে আনা হবে’। কিন্তু কখনো কখনো এমন ঘটনাও ঘটেছে- এরূপ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সীমান্তে বাংলাদেশীর লাশ পড়েছে।

বাংলাদেশে ভারতের হাতি উদ্ধার যজ্ঞ দেখে মনের মধ্যে একটা আফসোস ঘুরপাক খাচ্ছে- বন্ধু নয়, সীমান্তে একটা বুনো হাতির সমান দামও যদি ভারত আমাদের দিত! একটা বুনো হাতির চেয়ে একজন মানুষের দাম নিশ্চয়ই অনেক অনেক বেশি।

 

সূত্র: পরিবর্তন ডটকম

Pin It

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।