প্রধানমন্ত্রীর সফরে রেল উন্নয়নের ঘোষণা চায় কুড়িগ্রামবাসী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী বুধবার ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি’ উদ্বোধন করতে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলা সফর করবেন। আর এ সফরে প্রধানমন্ত্রী কুড়িগ্রাম-রংপুর, কুড়িগ্রাম-ঢাকা ও কুড়িগ্রাম-চিলমারীসহ বিভিন্ন রুটে রেল উন্নয়নের ঘোষণা দিতে পারেন বলে আশা করছেন ‘রেল-নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণ কমিটি’ ও এলাকাবাসী।

প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে এলাকার রেল যোগাযোগ উন্নয়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানানো হবে বলে জানিয়েছেন চিলমারী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত আলী সরকার বীরবিক্রম।

জানা গেছে, কুড়িগ্রামের বিভিন্ন রুটে বাস যোগাযোগ থাকলেও ব্যায় বেশি হওয়া তা বহন করা খুব কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। যদিও চিলমারী উপজেলার রমনা থেকে জেলা সদর হয়ে তিস্তা ও রংপুরের সঙ্গে রেল যোগাযোগ আছে। তবে তাতে এ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার তেমন কোনও উন্নতি হয়নি।

কুড়িগ্রাম রেল স্টেশন সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে দিনাজপুরের পার্বতীপুর হতে সকালে একটি ট্রেন ‘৪২২ আপ’ নামে কুড়িগ্রাম হয়ে চিলমারী ও ‘৪১৫ ডাউন’ নামে সেটি আবার তিস্তায় ফিরে আসে। ওই ট্রেনটিই আবার ‘৪১৬ আপ’ নামে কুড়িগ্রাম হয়ে চিলমারীর এবং ‘৪২১ ডাউন’ নামে চিলমারী থেকে কুড়িগ্রাম হয়ে পার্বতীপুর ফিরে যায়।

কুড়িগ্রাম রেল স্টেশনের বুকিং সহকারী আল-আমিন জানান, ‘কুড়িগ্রাম থেকে পাঁচপীর স্টেশন পর্যন্ত ট্রেনের গতি রাখা হয়েছে ঘণ্টায় ২৫ কি.মি, পাঁচপীর থেকে উলিপুর স্টেশন পর্যন্ত ঘণ্টায় ১৫ কি.মি. এবং উলিপুর থেকে রমনা স্টেশন পর্যন্ত গতি রাখা হয়েছে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০ কি.মি। ফলে ট্রেনের সময়সূচি কোনওভাবেই ঠিক রাখা সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ের দেড়-দুই ঘণ্টা পর ট্রেন গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছে।’

সোমবার কুড়িগ্রাম থেকে পার্বতীপুর গামী ‘৪২১ ডাউন’ ট্রেনের সহকারী লোকোমাস্টার নাম প্রকাশ না শর্তে এই প্রতিবেদককে জানান, ‘তিস্তা থেকে রমনা পর্যন্ত রেল পথে পাথর নেই বললেই চলে। যে কয়টি স্লিপার রয়েছে তাও খারাপ। রেল লাইনও বিভিন্ন জায়গায় বাঁকা। আমরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে ট্রেন চালিয়ে যাচ্ছি, কখন যে কি হয়।’

ট্রেনে ভ্রমন করে বিরক্ত কিন্তু নিরুপায় যাত্রীদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা বাধ্য হয়েই ট্রেনে যাতায়াত করেন। কুড়িগ্রাম হতে রংপুর মাত্র ৫০ কি.মি সড়ক পথের বাস ভাড়া ৮০ টাকা। কিন্তু ট্রেনে এই ভাড়া মাত্র ১৫ টাকা। ফলে বিলম্ব হলেও দারিদ্রতার কারণে সাধারণ যাত্রীরা ট্রেনে ভ্রমন করতে বাধ্য হন।

বাংলাদেশ রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম জানান, ‘কুড়িগ্রাম রুটে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হলে মন্ত্রণালয়কে বড় প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। তবে আমি তিস্তা থেকে কুড়িগ্রাম পর্যন্ত রেল পথে কিছু স্লিপার পরিবর্তন করার ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছি।’

জেলার রেল-নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণ কমিটির প্রধান সমন্বয়ক নাহিদ হাসান নলেজ জানান, ‘আমরা দীর্ঘদিন থেকে চিলমারী-ঢাকা রুটে ‘ভাওয়াইয়া এক্সপ্রেস’ নামে একটি আন্তঃনগর ট্রেনের দাবি করে আসছি। এটা গোটা কুড়িগ্রাম জেলাবাসীর প্রাণের দাবি।’

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন জানান, ‘সুযোগ পেলেই এবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ এলাকার রেলের উন্নয়নের বিষয়টি তুলে ধরবো।’

Pin It

Comments are closed.