‘পাটের দাম দিয়া শেখের বেটি ভালা কাম করছে’

 

‘১৮শ ট্যাহা মণ পাট বেচছি। চার মণ পাট আনছিলাম, বেইচা ভাল নাগতিছে। পাটের দাম দিয়া শেখের বেটি ভালা কাম করছে।’ পাটের দাম নিয়ে অনুভূতি জানতে চাইলে এভাবেই কথা বলছিলেন কৃষক আমির হোসেন (৬০)। বুধবার সকালে রাজীবপুর বাজারে পাট হাটে কথা হয় আমির হোসেনের সাথে।

তিনি বলেন, ‘এবার তিন বিঘা জমিতে পাট আবাদ করছি। পাট ভালা অইছে দামও ভালা। পাট বেইচা যে ট্যাহা হইবো তাই দিয়া আগে জামাই খাওয়ামু।

আমির হোসেনের বাড়ি রাজীবপুর উপজেলার জাউনিয়ারচর গ্রামে। মধ্যবিত্ত কৃষক আমির হোসেনের তিন মেয়ে এবং তিন ছেলে। তিন মেয়ে ও দুই ছেলের বিয়ে দিয়েছেন। জমাজমিও আছে ৩ একরের মতো।

পাট বাজার ঘুরে দেখা গেল আমির হোসেনের মতো পাট বেচে সব কৃষকের মনে খুশি খুশি ভাব। ব্রহ্মপুত্র বিচ্ছিন্ন চর থেকে পাট বিক্রি করতে হাটে আসছেন আয়নাল হক (৬৫)।

তিনি বলেন, ‘ভ্যান গাড়ি থাইক্যা পাট নামাবার পারি নাই। আগেই ব্যাপারী নিয়া গ্যাছে। ১৭শ’ ৮০ ট্যাহা মণে দুই মণ বেচছি। এইবার পাট হাটে দেরি করবার নাগে নাই। এই ট্যাহায় বউ’র কাপড়, বাচ্চাকাচ্চাদের জামাকাপড় জুতা কিনুম।’

বাজারে পাটের চাহিদা ও দাম থাকায় অনেক বছর পর ঘরে ঘরে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন দেখা দিয়েছে। কৃষক এখন ব্যস্ত পাট নিয়ে। পাট জাগের পানির গন্ধ এখন চারদিকে। পাটের আঁশ ছাড়ানো শুকানোর আমেজে মেতে উঠেছে কৃষক কৃষাণীরা। ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই পাট নিয়ে চলে যাচ্ছে বাজারে। আবহমান বাংলার এ দৃশ্য এখন রাজীবপুর ও রৌমারী উপজেলার সবজায়গায়।

উপজেলার টাঙ্গাইল পাড়া গ্রামের সেকান আলী (৫৬) বলেন, ‘এবার আমি একশ’ মণ পাট বেচবো। যার দাম হবে পৌনে দুই লাখ টাকার মতো। আমার এই বয়সে এত বেশি টাকার পাট বেচতে পারি নাই। শেখ হাসিনা পাটের দাম বাড়িয়ে আমাদের মতো কৃষকের উপকার করেছে।’

সপ্তাহে তিন দিন হাট বসে রাজীবপুর উটজেলায়। যে দিন হাটে পাট বেচাকেনা হয় সে দিন বাজারের সকল ব্যবসায়িরই ব্যবসা ভাল হয়। রাজীবপুর বাজারের কাপড় লতিফ বিশ্বাস বলেন, হাটের দিন মধ্য রাতের পর আর ঘুমানো যায় না। কৃষক পাট বেচে চলে আসে কাপড় কিনতে তাই আমাদেরও ভোরে দোকান খুলতে হয়। জুতা, জেলাপি’র দোকান থেকে শুরু করে বাজার বসে জমজমাট। এসব কিছুই হচ্ছে পাটের দাম বেশি হওয়ার কারণে।

রাজীবপুর বাজারের পাট ব্যবসায়ী মতিউব রহমান জানান, এখন পর্যন্ত পাটের বাজার মূল্য ভাল। আমরা ১৯শত টাকা পর্যন্ত পাট কিনছি।-বিবার্তা২৪

Pin It

Comments are closed.