‘পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রের মান ভারতের চেয়ে ভালো’

অনলাইন ডেস্ক : পাকিস্তানে পরমাণুব্যবস্থা শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে আসায় দেশটি বাধ্য হয়ে পারমাণবিক অস্ত্রব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রের মান, ক্ষমতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভারতের তুলনা ভালো।

পাকিস্তানের সাবেক পরমাণুবিজ্ঞানী এবং থর কয়েল ফিল্ডের আন্ডারগ্রাউন্ড গ্যাসিফিকেশন প্রজেক্টের চেয়ারম্যান সামার মুবারাকমান্দ গত মঙ্গলবার ইসলামাবাদে এক সেমিনারে এসব কথা বলেছেন। ইসলামাবাদ পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (আইপিআরআই) ‘পাকিস্তানে পরমাণু শক্তির বেসামরিক ব্যবহার: সুযোগ এবং সম্ভাবনা’ শীর্ষক ওই সেমিনারের আয়োজন করে।

পাকিস্তানের ডন পত্রিকায় বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে।

সামার মুবারাকমান্দ বলেন, পাকিস্তানের পরমাণু কর্মসূচি সব সময় শান্তিপূর্ণ ছিল। বেলুচিস্তানে মুঙ্গিতে পানি ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (ওয়াপদা) বাঁধ নির্মাণে, পরমাণু চিকিৎসাকেন্দ্র এবং কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য পারমাণবিক কর্মসূচি চালানো হয়েছে।

সাবেক এই পরমাণুবিজ্ঞানী বলেন, ‘২০০৮ সালে ভারতকে পরমাণু সরবরাহকারী গ্রুপের (এনএসজি) সদস্য করতে যুক্তরাষ্ট্রের লবিরা তদবির করেছিল। সাম্প্রতিক সময়েও ভারতকে এনএসজির সদস্য করতে পশ্চিমা দেশগুলো পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছে।’

ইরান ও লিবিয়াকে পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণে সহায়তার অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে সামার মুবারাকমান্দ বলেন, ওই দুটি দেশ অপারমাণবিক দেশ হিসেবে পরিচিত। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববাসী দেখতে পারে যে পাকিস্তান বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচি সামরিক উদ্দেশে ব্যবহার করা হচ্ছে না। পাকিস্তানের পারমাণবিক উপাদানও চুরি হয়নি। আমরা উপমহাদেশের মর্যাদা রক্ষা করবই। ছোট রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও ভারসাম্য রক্ষার জন্য ভারতের পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর পরই পাকিস্তান ওই পরীক্ষা চালায়।’

ওই পরমাণুবিজ্ঞানী দাবি করেন, ‘ভারত ১৯৫৯ সাল থেকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা শুরু করে। কিন্তু বিশ্বে ভারতের অবস্থান ভালো বলে বিবেচিত। আর পাকিস্তানের অবস্থান হচ্ছে—দেশটিকে বিশ্বাস করা যায় না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রের মান, ক্ষমতা এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা ভারতের তুলনায় ভালো।’

Pin It

Comments are closed.