নাগেশ্বরীতে বন্যার পানিতে নষ্ট ৯০ হেক্টর জমির ধান

IMG_২০১৬০৮০৮_১৭৩৭৫৭

 

নাগেশ্বরীতে চলতি বন্যার পানিতে তলিয়ে পচে নষ্ট হয়ে গেছে ৯০ হেক্টর জমির পাকা, আধা-পাকা আউশ ধান। সর্বস্ব হারিয়ে হতবিহ্বল হয়ে পড়েছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক।

কৃষি অফিস জানায়, এবারে উপজেলার ৮০৭ জন কৃষক ২১০ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের ব্রিধান-৪৮ লাগিয়েছিল। অনুকূল আবহাওয়া ও নিয়মিত পরিচর্যায় ফলনও হয়েছিল ভালো। ক্ষেতের পাকা, আধা-পাকা সোনালী ধান দেখে হাসি ফুটেছিল কৃষকের মুখে। এ ধান কেটেই রোপা আমন লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তারা। কিন্তু চলতি বন্যায় পৌরসভার বৃহদাংশসহ উপজেলার ১২ ইউনিয়ন প্লাবিত হলে ফসল ঘরে ওঠার আগেই তা তলিয়ে যায়। বানের পানি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় ক্ষেতেই পচে নষ্ট হয়ে যায় ৯০ হেক্টর জমির পাকা, আধা-পাকা ব্রি-ধান-৪৮। বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও ক্ষেত থেকে সম্পূর্ণ পানি এখনও নেমে না যাওয়ায় বাকি ১২০ হেক্টর জমির ধানগুলোও নষ্টের পথে।

পৌরসভার হাশেম বাজার, ভিতরবন্দ ইউনিয়নের হাতিবান্ধা ও কুমারপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ৪০-৫০ বিঘা জমির ব্রি-ধান-৪৮ কাদা-মাটিতে নেতিয়ে পড়ে আছে। পচন ধরেছে শীষে।

হাশেম বাজারের কৃষক আহম্মদ আলী, হাতিবান্ধার খলিলুর রহমান, আজিজার রহমান ও পশির উদ্দিনসহ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, এবারে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বীজ নিয়ে তারা ব্রি-ধান-৪৮ লাগিয়েছেন। ফলনও খুব ভাল হয়েছে। ফসল ঘরে ওঠার পূর্ব মহূর্তেই বন্যায় তা তলিয়ে দীর্ঘ জলাবদ্ধতায় পচে নষ্ট হয়ে গেছে। শেষ মহূর্তের এ ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা তাদের জন্য কষ্টসাধ্য। হতবিহ্বল হয়ে পড়েছেন তারা।

কুমার পাড়া গ্রামের লালচাঁদ মিয়া জানান, তিনি ব্র্যাক অফিস থেকে ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে বর্গা নেয়া তিন বিঘাজমিতে ব্রি-ধান-৪৮ লাগিয়েছেন। বন্যায় সম্পূর্ণ তলিয়ে গিয়ে তা পচে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন ঋণ কিভাবে পরিশোধ করবেন এ নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় আছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান জানান, কৃষি অফিস থেকে কৃষককে আগাম জাতের এ ধানের বীজ দেয়া হয়েছিল। বন্যায় তাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা করে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর পাঠানো হবে।

Pin It

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।