থানা থেকে আদালত পৌছতে কিশোরের কাধে গাজা ও হিরোইনের মামলা

নিউজ ডেস্ক :: শুন্য হাতে গ্রেফতার অতপর থানায় গিয়ে হলো এক পুড়িয়া গাজা। আদালতে পৌছতে পৌছতে সেই আসামীর কাধে উঠলো ২৫০ গ্রাম গাজা ও ২৫ পুড়িয়া হিরোইনের মামলা। মুলত জমি দখলে ব্যর্থ হয়ে একটি প্রভাবশালী মহল পুলিশকে ব্যবহার করে হেনস্থা করছে বলে গন অভিযোগে এলাকাবাসীর দাবি।

মাদক থেকে দুরে থেকেও প্রভাবশালীর রোষানলে পড়েছে লালমনিরহাট পৌরসভার নর্থ বেঙ্গলমোড় এলাকার লন্ড্রি ব্যবসায়ী কিশোর শাহিনুর ইসলাম(১৬)। সে ওই এলাকার আতিয়ার রহমানের ছেলে।

এলাকাবাসীর গনঅভিযোগে জানা গেছে, শাহীনুরের বাবা আতিয়ার রহমান ক্রয় ও পৈত্রিক সুত্রে মালিকানা হয়ে দীর্ঘ দিন ধরে ওই বাসায় বসবাস করে আসছেন তারা। বাবা ছেলের লন্ড্রি ও ভাড়ায় মাইক সরবরাহের ব্যবসায় চলছে তাদের সংসার। তাদের ওই জমিটুকু দখলের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে তাদের
প্রতিবেশী প্রভাবশালী আশরাফুল আলম দৌলত এবং রফিকুল ইসলামের। তারা বাসাবাড়ি জবর দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়। এ জন্য প্রায় সময় শাহীনুরের পরিবারকে বিভিন্ন ভাবে হুমকী দিয়ে আসছেন তারা। একাধিকবার ওই বসতভিটা দখলের অপচেষ্টা চালায় রফিকুল গংরা। এ থেকে পরিত্রান চেয়ে গত ২২ আগষ্ট সদর থানায় এবং পরে ২৪ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দখলবাজদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন শাহীনুরের মা শাহিনা বেগম। আদালত ওই জমির উপর ১৪৪ ধারা জারী করেন।

এর পরেও থেমে থাকেনি দখল বাজদের অপচেষ্টা। গত ১৯ ডিসেম্বর রাতে রফিকুল ইসলাম গংরা লাঠি শোটাসহ দলবলে এসে তাদের পরিবারের লোকজনের উপর হামলা চালিয়ে জবর দখলের চেষ্টা চালায়।

শাহীনুরদের আত্নচিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এলে দখলে ব্যর্থ হয় রফিকুল গংরা। এরই জের ধরে দখলবাজদের দেয়া তথ্যমতে ২২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সদর থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) আসাদুল হক হঠাৎ শাহীনুরের দোকানে গিয়ে তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় পাশ্ববর্তি দোকানদাররা শাহীনুরকে আটকের কারন জানতে চাইলে পুলিশ জানায়, তার পকেট থেকে এক পুড়িয়া গাজা ও এক পুড়িয়া হিরোইন পাওয়া গেছে। পরদিন শাহীনুরকে ২৫০ গ্রাম গাজা ও ২৫ পুড়িয়া হিরোইনসহ মাদক মামলায় আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায় সদর থানা পুলিশ। এ মাদক উদ্ধার মামলায় সিজার লিষ্টের স্বাক্ষী করা হয়েছে শাহীনুরদের ভিটাবাড়ির দখলবাজ রফিকুল ইসলামের ছেলে সাহেব শেখকে।

পুলিশের এ নাটক দেখে হতভম্বর এলাকাবাসী। এ মিথ্যা সাজানো মাদক মামলাটি উচ্চতর তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে নিরাপরাধ কিশোর শাহীনুরের মুক্তির দাবিতে পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দফতর বরাবর এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা একটি গনঅভিযোগ দায়ের করেন।

ওই ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর রাশেদুল হাসান রাশেদ জানান, ওই দিন থানায় গিয়ে শুনেছি -শাহিনুরকে ধরার পর তার শরীরে এক পুরিয়া গাঁজা ও এক পুরিয়া হেরোইন পাওয়া গেছে। তাই তাকে ছাড়ার ব্যাপারে পুলিশকে কোন সুপারিশ করা হয়নি। তাছাড়া সে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত কিনা তা আমি জানি না বা শুনি নাই।

লালমনিরহাট সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজ আলম জানান, গ্রেফতার শাহীনুরের মুখে বাংলা মদের গন্ধ পাওয়া গেছে। এছাড়াও তার পকেটে ২৫ পুড়িয়া হিরোইন এবং যে গাজার পুড়িয়া পাওয়া গেছে তার ওজন ২৫০ গ্রাম। তাই তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দিয়ে
জেলহাজতে পাঠানো হয়।

Pin It

Comments are closed.