তিস্তা ব্যারাজের ভাটিতে চলছে বালু, পাথর উত্তোলনের মহোৎসব

 

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় তিস্তা ব্যারাজের ভাটিতে চলছে বালু, পাথর উত্তোলনে মহোৎসব। ফলে এবারের বন্যায় তিস্তা নদীর ভাঙ্গন তীব্র রূপ ধারণ করেছে।

এভাবে বালু, পাথর উত্তোলনে ভাঙ্গছে নদী, পুড়ছে নদী পাড় এলাকার মানুষের কপাল, কাঁদছে হাজারো মানুষ। আর কপাল খুলে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন স্বার্থান্বেষী কতিপয় ব্যক্তি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে,তিস্তা নদীর ১শ’ গজ দুরের ভাটিতে নৌকায় করে মেশিনের সাহয্যে বালি, পাথর উত্তোলন করছে শ্রমিকগন। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা তিস্তা নদীর ভাঙ্গনে সর্বস্ব হারিয়ে জীর্বীকা নির্বাহের উপায় হিসেবে এ বালি, পাথর উত্তোলন করছে। সিন্ডিকেট করে এ পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে বলেও তারা জানায়।

এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রনে রয়েছেন শহিদুল ইসলাম শহিদ ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মতিয়ার রহমান। তারা বর্তমানে নদী থেকে বালি পাথর উত্তোলন করে অনেক টাকার মালিক বনে গেছেন বলেও জানা গেছে। উত্তোলনকৃত বালি, পাথরের টাকা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তা, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে কতিপয় নেতাদের মাঝে ভাগ ভাটোয়ারা হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

এদিকে তিস্তা নদী থেকে বালি, পাথর উত্তোলন করার ফলে হুমকিতে পড়েছে দেশের বৃহত্তর সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ। এছাড়াও এ বালি, পাথর উত্তোলন করায় এবারের বন্যায় নদীর ভাঙ্গনের স্বীকার হয়ে কয়েক হাজার পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। দিন দুপুরে সকলের সামনে দিয়ে এসব বালি, পাথর উত্তোলন হলেও যেন দেখার কেউ নেই। কতৃপক্ষ দেখেও না দেখার ভান করছেন।

এ প্রসঙ্গে পাউবি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি জানান, ব্যারাজের ২শ’গজ দূরে পাথর উত্তোলন করলে আমার করার কিছুই নেই। ২শ’গজের ভিতরে পাথর উত্তোলন করছে বললে তিনি জানান,এটা হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এবিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুবুর রহমান জানান, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Pin It

Comments are closed.