অধিদপ্তরে রূপ নিচ্ছে নিবন্ধন পরিদপ্তর

অনলাইন ডেস্ক :: আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন পরিদপ্তর চলতি বছরের জুন মাসেই পূর্ণাঙ্গ অধিদপ্তর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। অর্থ বিভাগের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ অধিশাখা-৫-এ থাকা এ-সংক্রান্ত ফাইলটি যেকোনো সময় ছাড় হবে। এখান থেকে ফাইলটি অগ্রগামী হলেই অধিদপ্তরের পথ অনেকটা এগিয়ে যাবে। এর ফলে ওই অধিদপ্তরের আওতায় রাজস্ব খাতে ৯০৫টি নতুন পদ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে রেজিস্ট্রেশন ক্যাডার সৃষ্টির কাজ এগিয়ে নিতেও আর কোনো বাধা থাকবে না।

নিবন্ধন পরিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ২০১১ সালে সাব-রেজিস্ট্রারদের ক্যাডারভুক্ত করা এবং নিবন্ধন পরিদপ্তরকে অধিদপ্তরে রূপান্তরের কাজ শুরু হয়। আইন ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিষয়টি অতিগুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ফাইল অগ্রগামী করলেও অর্থ মন্ত্রণালয়ের নানা অজুহাত আর কোয়ারির কারণে প্রায় চার বছর বিষয়টি ঝুলে থাকে। সর্বশেষ অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ শাখার উপসচিব বিলকিস জাহান রিমি স্বাক্ষরিত ২০১৪ সালের ২ নভেম্বরের এক চিঠিতে নতুন করে আটটি তথ্য উল্লেখ করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার শাখাকে এসবের জবাব দিতে বলা হয়। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সেসব জবাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

সাব-রেজিস্ট্রারদের পেশাগত মানোন্নয়ন এবং ভাবমূর্তি বৃদ্ধির জন্য অতীতে অনেক চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু সেসবের অধিকাংশই খাতাপত্রে সীমাবদ্ধ থেকেছে। সম্প্রতি আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক সাব-রেজিস্ট্রারদের চাকরি গতিশীল করতে নিজেই কিছু উদ্যোগ নিয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকটি উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে। ফলে শত শত বছর ধরে অবহেলিত ও ঘুণে ধরা রেজিস্ট্রেশন সার্ভিসে গতি এসেছে। ভাবমূর্তি আগের চেয়ে কিছুটা হলেও বেড়েছে। সাব-রেজিস্ট্রাররা বিনা ঘুষে ভালো জায়গায় পোস্টিং পাচ্ছেন। কথায় কথায় বদলির খড়্গ থেকেও রেহাই মিলেছে।

শত শত বছরের পুরনো রেজিস্ট্রেশন সার্ভিসের প্রশাসনিক কাঠামো, নিয়মকানুন কিংবা রেওয়াজ পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে রেজিস্ট্রেশন ম্যানুয়েল, বিধিমালা পর্যন্ত পরিবর্তন করা হয়েছে। এ জন্য নিবন্ধন পরিদপ্তরকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। আইনমন্ত্রী সম্প্রতি বাংলাদেশ রেজিস্ট্রেশন সার্ভিসের বার্ষিক সভায় ঘোষণা দেন, এখন থেকে কোনো সাব-রেজিস্ট্রারকে অকালে বদলি করা হবে না। বছরের জুন কিংবা জানুয়ারি মাসে তাঁদের বদলির কার্যক্রম শেষ করা হবে, যাতে সাব-রেজিস্ট্রারদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া কিংবা স্কুল-কলেজে ভর্তিতে জটিলতা না হয়।

একাধিক সাব-রেজিস্ট্রার জানান, ব্রিটিশ আমলের আদলে একটি পরিদপ্তরের মাধ্যমে সারা দেশের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এর ফলে দেশের ৪৯৪টি সাব-রেজিস্ট্রি অফিস নানা সমস্যায় নিমজ্জিত। জনবল স্বল্পতার কারণে বহিরাগত উমেদার ও দালালদের দখলে অধিকাংশ সাব-রেজিস্ট্রি অফিস। দলিল রেজিস্ট্রি করতে এসে টাউট-বাটপাড়দের হাতে সাধারণ ভূমি মালিকরা সর্বস্বান্ত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। এ কারণে পরিদপ্তরটি অধিদপ্তর হিসেবে গড়ে তোলা আশু প্রয়োজন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সাব-রেজিস্ট্রার বলেন, ‘শুধু অধিদপ্তর হলেই সব সমস্যার সমাধান হবে না। সেই সঙ্গে রেজিস্ট্রেশন ক্যাডার সৃষ্টি করতে হবে। এমনিতেই মুজিবনগর সরকারের জাল সার্টিফিকেটধারী সাব-রেজিস্ট্রারদের দৌরাত্ম্যের কারণে এই সার্ভিস বিতর্কিত হয়ে উঠেছে। তাদের ডিপার্টমেন্টে রেখে রেজিস্ট্রেশন সার্ভিসে স্বচ্ছতা আনা যাবে না।’

বাংলাদেশ রেজিস্ট্রেশন অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব কায়সার আহমেদ বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আগামী জুনেই নিবন্ধন পরিদপ্তরটি অধিদপ্তরে পরিণত হবে। সাব-রেজিস্ট্রারদের দীর্ঘদিনের এই দাবি বাস্তবায়নে আইনমন্ত্রী আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। আর অধিদপ্তর হলে লোকবল বাড়বে, গতি বাড়বে প্রশাসনিক কাজে।’ উৎস: কালেরকন্ঠ

Pin It

Comments are closed.