গ্রামীণ দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিতরা পাবে মৌসুমী ও কর্মভিত্তিক ঋণ

 

গ্রামীণ দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক। বিশেষায়িত ব্যাংকিং খাতে যোগ হলো আরো একটি নতুন ব্যাংক।

এই ব্যাংক থেকে প্রান্তিক পর্যায়ের জনগণ সহজ শর্তে মৌসুমী ও কাজভিত্তিক ঋণ পাবেন। যার সুদের হার হবে মাত্র ৮ শতাংশ। ফসল ওঠা বা সংশ্লিষ্ট মৌসুমভিত্তিক কাজ শেষ করে একবারে ওই ঋণ পরিশোধ করতে পারবেন সংশ্লি­ষ্টরা।

আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পটিই এখন পল্ল­ী সঞ্চয় ব্যাংক। আর ব্যাংকটি আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে ২২ জুন থেকে। ওই দিন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ব্যাংকের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ব্যতিক্রমী এই ব্যাংকটি দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে গ্রামের দরিদ্র মানুষকে সঞ্চয়ে উত্সাহিত করতেই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ২০১৩ সালে বিশেষায়িত এই ব্যাংকটির প্রক্রিয়া শুরু হলেও পল্ল­ী সঞ্চয় ব্যাংক বিল-২০১৪ জাতীয় সংসদে পাস হয়।

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক দারিদ্র্য বিমোচন ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ৪৫টি খাতে ঋণ প্রদান করবে। এ খাতগুলো হচ্ছে, হাঁস-মুরগি পালন, ডেইরি ফার্ম, মত্স্য খামার, সবজি চাষ ও নার্সারি, গরু মোটাতাজাকরণ, ছাগল পালন, কুটির শিল্প, ফুল চাষ, দর্জি কাজ ও সেলাই কাজ, মৌমাছি চাষ, মিষ্টি-দধি ও মিষ্টিজাত দ্রব্য তৈরি, ক্ষুদ্র শিল্প, বাঁশ-বেত সামগ্রী, কাঠের কাজ, শস্য আবাদ, কাগজের ঠোঙ্গা ও বাক্স তৈরি,পুতুল খেলনা তৈরি কৃত্রিম ফুল তৈরি, মাশরুম চাষ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, মত্স্য জাল তৈরি, কলা চাষাবাদ, কামারশালার কাজ, চায়ের দোকান,ঠেলাগাড়ি, পাটজাত দ্রব্যাদি উত্পাদন, ধাত্রীকাজ, চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ উত্পাদন ও বিক্রি, উলের কাজ, সমন্বিত কৃষি উত্পাদন, শতরঞ্জি ও পাটের তৈরি, সেলুন, বই ও ছবি বাঁধাই, এমব্রয়ডারির কাজ, পানের বরজ উত্পাদন, শুঁটকি তৈরির কাজ, কার্ড ও সাইনবোর্ড তৈরি, রেশম চাষ, মোবাইল সার্ভিসিং, সাইকেল রিকশার গ্যারেজ, বেকারি, মুড়ি-চিড়া তৈরি, সূচিকর্ম,খাবারের দোকান ও স্থানীয়ভাবে সুবিধাজনক গ্রহণযোগ্য অন্যান্য কর্মকাণ্ডে ঋণ দেওয়া। এই ব্যাংক থেকে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা সহজ শর্তে মৌসুমী ঋণ সুবিধা পাবেন। এমনকি স্বল্প সুদে কাজভিত্তিক ঋণ দেওয়া হবে, যার সুদের হার হবে মাত্র ৮ শতাংশ। ফসল ওঠা বা সংশ্লিষ্ট মৌসুমভিত্তিক কাজ শেষ করে একবারে ঋণ পরিশোধ করা যাবে।
২০১৪ সালের ৮ জুলাই এই বিষয়ে একটি আইন সংসদে প্রণীত হয়। আইন অনুযায়ী একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প বিলুপ্ত হওয়ার পর এর সকল পরিসম্পদ ও অধিকার ব্যাংকে রূপান্তরিত হচ্ছে। বিলুপ্ত প্রকল্পের অনিষ্পন্ন কাজ এখন পল্ল­ী সঞ্চয় ব্যাংক বাস্তবায়ন করবে। ব্যাংকটি ৪৮৫টি শাখা নিয়ে যাত্রা শুরুর কথা থাকলেও প্রাথমিকভাবে ১০০ উপজেলায় নিজস্ব ভবনে শাখা চালু হচ্ছে।

জানা যায়, ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন ২০০ কোটি টাকা। সরকার ও সদস্যরা এর শেয়ারহোল্ডার। সরকারের হাতে ব্যাংকটির ৫১ শতাংশ শেয়ার। এই শেয়ারের বিপরীতে ইতোমধ্যে ১০২ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি ৪৯ শতাংশ থাকবে প্রকল্পের আওতায় গঠিত ঋণ গ্রহীতা শেয়ারহোল্ডারদের। পল্ল­ী সঞ্চয় ব্যাংকের মাধ্যমে অবহেলিত ও পশ্চাত্পদ গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আধুনিক ব্যাংকিং সুবিধার আওতায় আসার পথ প্রশস্ত হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পে বর্তমানে ৪০ হাজার ৫২৭ টি সমিতি রয়েছে এবং ২২ লাখ ৬১ হাজার পরিবার এর সদস্য। ইতোমধ্যেই সমিতির সদস্যদের সঞ্চয়ের পরিমাণ ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। তাই একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতেই এ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছে সরকার। গ্রামীণ অর্থনীতি সমপ্রসারিত হওয়ায় তাদের সঞ্চয় বাড়াতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Pin It

Comments are closed.