কৃষক পরিবারের সন্তান বিসিএস ক্যাডার

অনলাইন ডেস্ক :: নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত একটি গ্রামের নাম শালহাটী। এ গ্রামের এক কৃষক পরিবারে জন্ম হওয়া মো: আহ্সান হাবিব এখন উপজেলার প্রথম বিসিএস ক্যাডার। বর্তমানে তিনি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) হিসেবে লালমনিরহাট জেলায় কর্মরত আছেন। তার বাবার নাম মো: হাকিম উদ্দিন। আহসান হাবিব একজন কৃষকের সন্তান হলেও তিনি ডিমলা উপজেলার একজন গর্বিত কৃতিসন্তান। তাকে অনুসরণ করে এগিয়ে যেতে পারে উপজেলার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।

আহসান হাবিব এ পর্যন্ত আসার পিছনে যে ব্যক্তিটিকে তার জীবনে প্রথম উদাহরণ হিসেবে দেখেছেন, তিনি হলেন তার বড় আব্বা (চাচা) প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আফিজ উদ্দিন। তাকে সবাই আফিজ উদ্দিন মাষ্টার বলেই বেশি চিনতেন। তিনি ছিলেন ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের প্রথম গ্রাজুয়েট।

আহসান হাবিবরা তিন ভাই, দুই বোন। তিনি ভাই-বোনের মধ্যে দ্বিতীয় ও ভাইদের মধ্যে বড়। দুই বোন বিয়ের পর সংসারিক জীবনে ব্যস্ত। তার ছোট দুই ভাইরের এক ভাই হালিমুর রহমান প্রামের উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষক। আর এক ভাই সেলিম আহম্মেদ মাস্টার্স ডিগ্রী সম্পন্ন করে মার্চেনডাইজার হিসেবে ঢাকায় কর্মরত আছেন। মা আমেনা বেগম একজন গৃহিণী।

বিসিএস ক্যাডার আহসান হাবিব ডিমলা উপজেলার সাতজান রথবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। সব শ্রেণিতেই তিনি ছিলেন প্রথম। এরপর গ্রামে তখন কোন উচ্চ বিদ্যালয় না থাকায় ৬ কি.মি. পথ পাঁয়ে হেঁটে স্কুলে যেতেন জলঢাকা উপজেলার চিড়াভিজা গোলনা উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখানে ৬ষ্ঠ শ্রেণি পাশ করার পর নীলফামারীতে বড় চাচা আফিজ উদ্দিন মাষ্টারের বাসায় পড়াশোনার জন্য পাড়ি জমান। বয়স কম মনে হওয়ায় নীলফামারী ছমির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে আবারও ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হন। সেখানে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন এবং অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি লাভ করেন। এরপর নীলফামারী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯৮৮ সালে ০৪টি বিষয়ে লেটার মার্কসসহ প্রথম বিভাগ লাভ করেন। নীলফামারী সরকারি কলেজ থেকে ১৯৯০ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে পাশ করেন।

উল্লেখ্য যে, সে সময় একমাত্র ছাত্র হিসেবে তিনি প্রথম বিভাগ লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি অনুষদে ভর্তি হয়ে অনার্স ও এগ্রোনমিতে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। উভয় পরীক্ষাতেই তিনি প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন।

আহসান হাবিব প্রথমে বিসিএস কৃষি ক্যাডারে যোগদান করে কুড়িগ্রামের উলিপুর ও রংপুর সদর উপজেলায় কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি করেন। পরে ২৪তম বিসিএস এর মাধ্যমে প্রশাসন ক্যাডারে চলে আসেন।

প্রশাসন ক্যাডারে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২০০৫ সালের ৪ জুলাই প্রথম যোগদানের পর কিশোরগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ কালেক্টরেটে সহকারী কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় সহকারী কমিশনার(ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মাঠপর্যায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদ উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে কুড়িগ্রামের রাজিবপুর, চিলমারী, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, সাদুল্লাপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) হিসেবে লালমনিরহাট জেলায় কর্মরত আছেন।

উল্লেখ্য যে, নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ইতিহাসে প্রথম প্রশাসনিক ক্যাডার হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন আহসান হাবিব।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক। বড় মেয়ে নামিরা ৭ম শ্রেণিতে এবং ছেলে নুহাদ প্লে­গ্রুপে অধ্যয়নরত। এবং তার সহধর্মিনী খন্দকার কামরুন নাহার রুনা রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্স করছেন। সূত্র: নয়াদিগন্ত

Pin It

Comments are closed.