কুড়িগ্রামে ডাকঘরের রানারকে মারপিট, ডাকবস্তা ছিনতাই!

কুড়িগ্রামের রাজীবপুরের কোদালকাটি ডাকঘরের রানার’কে (ডাক বস্তা বাহক) ইউপি চেয়ারম্যানের কক্ষে আটকে রেখে মারপিট করার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় রানারের কাছে থাকা ডাকঘরের ডাক বস্তা ছিনতাই করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দলীয় গ্রুপিংয়ের কারণে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর নির্দেশে তারই ক্যাডাররা এ ঘটনা ঘটায় বলে জানা গেছে। আজ বুধবার সকাল ১১টার দিকে কোদালকাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

কোদালকাটি ইউনিয়ন সরকারি ডাকঘরে রানার পদে চাকরি করেন মজিবুর রহমান মিষ্টি (৩৭)। একই সঙ্গে তিনি কোদালকাটি ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সোহেল রানার সঙ্গে কোদালকাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। ডাকঘরের রানার পদে চাকরি করা মজিবুর রহমান মিষ্টি ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতির পক্ষে কাজ করে। এ নিয়ে যুবলীগের নেতাকর্মীর সঙ্গে চেয়ারম্যানের তীব্র গ্রুপিং রয়েছে।

রানার মজিবুর রহমান মিষ্টি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি চেয়ারম্যানের পক্ষে না থাকার কারণে তার ক্যাডার তোতা মিয়া, বুলু মিয়া, টুলু মিয়াসহ ১০/১২ জন আমাকে ধরে নিয়ে চেয়ারম্যানের কক্ষে আটকে মারপিট করে। এ খবর পেয়ে যুবলীগের নেতাকর্মীরা এগিয়ে আসলে তারা আমাকে ছেড়ে দেয়। তবে আমার সঙ্গে থাকা সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টসহ ডাক বস্তাটি তারা ছিনিয়ে নিয়েছে। এখন পর্যন্ত তা ফেরত দেয়নি। বিষয়টি থানা পুলিশকেও জানানো হয়েছে। কিন্তু রাজীবপুর থানার দারোগা আশরাফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে চেয়ারম্যানের কথা শুনে উল্টা আমাদেরই দোষ দিচ্ছে।’

এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কোদালকাটি ডাকঘরের পোষ্ট মাস্টার আব্দুর রফিক জানান, বিষয়টি স্থানীয় ভাবে মিমাংশার এবং হারিয়ে যাওয়া ডাকবস্তাটি উদ্ধারের চেষ্টা করছি। এ নিয়ে কোনো সংবাদ প্রকাশের দরকার নেই।

এদিকে অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কোদালকাটি ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘মিষ্টিসহ যুবলীগের ক্যাডাররাই আমার কার্যালয়ে এসে প্রতি মাসে দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরিষদের জানালা ভাঙচুর করে আমার ওপর চড়াও হয়। এ নিয়ে ঝগড়ার এক পর্যায়ে আমার ছেলেরা তাকে আটকে রাখে।’

এ ব্যাপারে রাজীবপুর থানার এসআই আশরাফুল ইসলাম বলেন, কোদালকাটি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আমাকে ফোন করে ডেকে নিয়ে গেছে। যুবলীগের কয়েকজন কর্মী নাকি চেয়ারমানের কাছে চাঁদা দাবি করছে কিন্তু আমি গিয়ে কাউকে পাইনি। ডাকঘরের কোনো ডাক বস্তা ছিনিয়ে নেওয়ার কোনো অভিযোগ কেউ করেনি।

Pin It

Comments are closed.