কালীগঞ্জে প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার সত্যতা পেয়েছে প্রতিনিধিদল

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের নির্দেশে বিদ্যালয় পরিদর্শক রবীন্দ্র নারায়ণ ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে দুই সদস্যের তদন্ত দল গতকাল বুধবার লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের গোপালরায় পঞ্চপথী উচ্চবিদ্যালয় পরিদর্শন করেছে। তদন্ত দল ওই বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আতাউজ্জামান রঞ্জুর হাতে প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমকে লাঞ্ছিত হওয়ার সত্যতা পেয়েছে।

এ ঘটনায় গতকালই লালমনিরহাট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম মোসলেম উদ্দিন ঢাকার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন।

এ ছাড়া কালীগঞ্জ থানায় গত মঙ্গলবার রাতে আতাউজ্জামান, অভিভাবক সদস্য আবদুল মতিনসহ আরও দুই-তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

আতাউজ্জামানের হাতে জুতাপেটার শিকার প্রধান শিক্ষক ওই মামলা করেন।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের দুই সদস্যের প্রতিনিধিদলকে গতকাল সার্বিক সহযোগিতা করেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহিনুর আলম।

এদিকে ইউএনওর নির্দেশে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আফরোজা বেগম গত মঙ্গলবার বিদ্যালয় পরিদর্শন ও শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। বিদ্যালয়ের পাঠদান স্বাভাবিক রাখার অনুরোধ করেন আফরোজা। পরে শিক্ষকেরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করে পাঠদান শুরু করেন।

প্রসঙ্গত, বিদ্যালয়ের তহবিলে থাকা দেড় লাখ টাকা ধার চাইছিলেন আতাউজ্জামান। প্রধান শিক্ষক টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। গত রোববার প্রধান শিক্ষককে জরুরি সভা ডাকার পরামর্শ দেন সভাপতি। ওই দিন বিকেলে সভা ডাকা হয়। সভায় উপস্থিত সবাই আতাউজ্জামানকে ৫০ হাজার টাকা ধার দেওয়ার বিষয়ে একমত হন। এতে আতাউজ্জামান উত্তেজিত হয়ে রেজল্যুশন বইয়ের কয়েকটি পাতা ছিঁড়ে ফেলে নিজের পায়ের জুতা খুলে জাহাঙ্গীরকে পেটাতে থাকেন। ওই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার ক্লাস বর্জন শুরু করে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী-শিক্ষকেরা। সভাপতির শাস্তি ও অপসারণ দাবিতে তাঁরা গত সোমবার মানববন্ধনও করেন। তবে গতকাল অনির্দিষ্টকালের ক্লাস বর্জন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থী-শিক্ষকেরা ক্লাসে ফিরেছেন।

ইউএনও বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পাঠদানব্যবস্থাও স্বাভাবিক রয়েছে। ইতিমধ্যে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শকসহ দুই সদস্যের দল বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছে। স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মতামতও শুনেছে তারা।’ জাহাঙ্গীর মামলা করার কথা স্বীকার করেছেন।

কালীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (ওসি) মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

Pin It

Comments are closed.