কাজ না করেই ৩৩ লাখ টাকার বিল নিয়ে চম্পট

IMG_২০১৬০৭২২_২২১৫১৭

 

কাজ শেষ না করে লালমনিরহাট জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরের অধীনে নয়টি স্কুলের ওয়াশ প্রোগ্রামের আওতায় ওয়াশরুম নির্মাণের ৩৩ লাখ টাকা তুলে ঠিকাদার গা ঢাকা দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার এ ঘটনা জানাজানি হয়।

জানা গেছে, গত অর্থবছরে লালমনিরহাট জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরের অধীনে নয়টি স্কুলের প্রাইমারি এডুকেশন ডিপ্লোমেন্ট প্রজেক্ট (পিইডিপি-৩) ওয়াশ প্রোগ্রামের আওতায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের স্বাস্থ্যসম্মত ওয়াশ রুম নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। স্কুলগুলো হলো, কাজীর চওড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শহীদ শাহাজাহান কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বালাপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাশিরাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খালিশা বারাজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঈশ্বরকোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পুথিকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রুদ্ধেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরের কাজে তদারকির দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রকৌশলী (এসও) আলী হোসেন জানান, কাজ এখনো শেষ হয়নি। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ফাতেমী ট্রেডার্সকে পুরো ৩৩ লাখ টাকার বিল দেয়া হয়েছে। গত ১৩ ও ২৮ জুন দুই দফায় এ বিল দেয়া হয়। অসম্পূর্ণ কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে চিঠি দিলে তার কোনো জবাব পাওয়া যাচ্ছে না, এমনকি ফোন করলেও সাড়া দিচ্ছেন না তিনি।

কাজ শেষ হওয়ার আগে কীভাবে বিল দেয়া হয়েছে জানতে চাইলে সহকারী প্রকৌশলী বলেন, “নির্বাহী প্রকৌশলী বাদশা আলম স্যার ভাল জানেন।”

জানা গেছে, নির্বাহী প্রকৌশলী বাদশা আলম রংপুরে দায়িত্ব পালন করার সময়ও কোটি টাকার বিল ঠিকাদারকে পরিশোধ করেন কাজ করার আগেই। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে তখন বিভাগীয় মামলা হয়। ওই মামলায় বর্তমানে মাসে দুবার হাজিরা দিচ্ছেন বাদশা আলম।

এ ব্যাপারে কথা বলতে বাদশা আলমের অফিসে গিয়ে তার সাক্ষাৎ না পেয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি ‘ব্যস্ত আছি, পরে কথা হবে’ বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

তবে নির্বাহী প্রকৌশলী বাদশার হয়ে কয়েকজন ঠিকাদার মোটা অঙ্কের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে এ ব্যাপারে রিপোর্ট না করতে এ প্রতিবেদককে অনুরোধের পাশাপাশি হুমকিও দেন।

Pin It

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।