এমপির শাস্তি চাইছি মৃত্যু চাই নাই : সৌরভ

অনলাইন ডেস্ক : গাইবান্ধার এমপি মনজুরুল ইসলাম লিটন হত্যায় কষ্ট পেয়েছে এক বছর আগে তারই গুলিতে আহত স্কুলছাত্র শাহাদাত হোসেন সৌরভ ও তার পরিবার। সে এখন ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ছে। সৌরভ বলেছে, ‘খুব খারাপ লাগতিছে। আমাকে গুলি করছিল বলে এমপি সাহেবের শাস্তি চাইছিলাম। তার মৃত্যু চাই নাই।’

সৌরভের বাবা সাজু বলেন, এমপি অনুতপ্ত হওয়ায় আমাদের ক্ষোভ-দুঃখ দূর হয়ে গিয়েছিল। তাই আমরা চেয়েছিলাম তার বিরুদ্ধে আমাদের দায়ের করা মামলাটি প্রত্যাহার করে নেব। কিন্তু তা আর হল না।

তিনিও সৌরভের মতো করে বলেন, ‘আমরা তার শাস্তি চেয়েছিলাম ঠিকই, কিন্তু এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। এ ঘটনায় আমরা খুব কষ্ট পেয়েছি। এলাকার সাধারণ মানুষের মতো আমাদেরও দাবি তাকে যারা গুলি করে হত্যা করেছে- তাদেরকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার ছোট মেয়ের আকিকার অনুষ্ঠান ১৩ জানুয়ারি। এর কার্ড দিতে চেয়েছিলাম এমপি লিটনকে। কিন্তু তা আর হল না।’

২০১৫ সালের ২ অক্টোবর ভোরে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের গোপালচরণ এলাকায় চাচার সঙ্গে হাঁটতে বেরিয়ে সংসদ সদস্য লিটনের ছোড়া গুলিতে আহত হয় সৌরভ। দুই পায়ে গুলিবিদ্ধ এই শিশুকে দীর্ঘদিন রংপুরের হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়।

ওই ঘটনায় গ্রেফতার হয়ে বেশ কিছুদিন কারাগারে থেকে গত আগস্টে জামিনে মুক্তি পান সুন্দরগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতা লিটন। ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রও হয়েছে।

সারা দেশে আলোড়ন তোলা ওই গুলির ঘটনার চৌদ্দ মাসের মাথায় শনিবার সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলে করে আসা অজ্ঞাত পরিচয় তিন যুবক সুন্দরগঞ্জের বাড়িতে ঢুকে লিটনকে গুলি করে হত্যা করে।

এবার গোপালচরণ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছে সৌরভ। কিন্তু নতুন বছরের প্রথম দিন স্কুলের বই উৎসবে যায়নি সে। সৌরভ বলে, ‘প্রথম দিন স্কুলে নতুন বই দিচ্ছে। এমপি সাহেবের কথা খালি মনে পড়তিছে। কিছু ভালো লাগিতিছে না। বই আনতে স্কুলে যাই নাই, বই আনতে বাবা গেছিল।’-যুগান্তর

Pin It

Comments are closed.