উদ্ভাবনী প্রকল্প চুরির অভিযোগ, থানায় জিডি

অনলাইন ডেস্ক :: লালমনিরহাট জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (ডিআরআরও) এ কে এম ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে অন্যের উদ্ভাবনী প্রকল্প চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বগুড়া সদর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে জিডি করা হয়েছে।

মাহমুদুন নবী নামের এক ব্যক্তি ১৩ এপ্রিল এই জিডি করেন। তাঁর দাবি, সম্প্রতি তিনি আধুনিক প্রযুক্তির স্বয়ংক্রিয় আগাম বন্যা সতর্কতাবার্তা পাঠানোর যন্ত্র উদ্ভাবন করেন। উদ্ভাবনটি নিজের নামে নিবন্ধন ও ট্রেডমার্কের জন্য ইতিমধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ে আবেদনও করেছেন।

কিন্তু জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ইদ্রিস আলী নিজেকে এ যন্ত্রের ‘উদ্ভাবক’ দাবি করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ই-গভর্নেন্স সেলের মাধ্যমে পরিচালিত অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্তির আবেদন করেছেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে লালমনিরহাট জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ কে এম ইদ্রিস আলী বলেন, ‘মাহমুদুন নবী যন্ত্রটি উদ্ভাবন করলেও ধারণাটা প্রথমে আমিই দিয়েছিলাম। চুরি করে নয়, তাঁকে বলেই সেটি (যন্ত্রটি) জাতীয় বিজ্ঞান মেলায় এবং সরকারিভাবে স্বীকৃতির জন্য এটুআই প্রকল্পে উপস্থাপন করেছিলাম। এ নিয়ে ভুল-বোঝাবুঝি হওয়ায় তিনি আমার বিরুদ্ধে জিডি করেছেন।’

মাহমুদুন নবী বলেন, তিনি এ পর্যন্ত নানা যন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন। বগুড়ার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার চরাঞ্চলে প্রতিবছর বন্যায় হাজার কোটি টাকার ফসলহানি হয়। এসব ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বন্যার আগাম সতর্কতাবার্তা পাঠানোর যন্ত্র উদ্ভাবনের বিষয়টি বছরখানেক আগে মাথায় আসে। টানা কয়েক মাস গবেষণা ও চেষ্টা চালিয়ে তিনি যন্ত্রটি উদ্ভাবন করেন।

মাহমুদুন নবী আরও বলেন, এ কে এম ইদ্রিস আলী ও তিনি বগুড়া শহরে পাশাপাশি ফ্ল্যাটে থাকেন। পূর্বপরিচিত হওয়ায় কথা প্রসঙ্গে আগাম বন্যা সতর্কতা যন্ত্র উদ্ভাবনের বিষয়টি ইদ্রিস আলীকে জানান। যন্ত্রটি সরকারিভাবে নিবন্ধনের ব্যাপারে আশ্বাস দিয়ে ইদ্রিস আলী কিছুদিন পর লালমনিরহাটে তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলায় যন্ত্রটি প্রদর্শনের জন্য নিয়ে যান। সেটি প্রদর্শন করে ইদ্রিস আলী পুরস্কৃত হন। সম্প্রতি ঢাকায় জাতীয় বিজ্ঞান মেলায় তিনি যন্ত্রটি উপস্থাপন করেন। সেখানেও যন্ত্রটি সেরা উদ্ভাবন হিসেবে চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়।

যন্ত্রটি নিজের উদ্ভাবিত দাবি করে তা বেসরকারিভাবে অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ই-গভর্নেন্স সেলের মাধ্যমে পরিচালিত এটুআই প্রোগ্রামে আবেদন করেন। বিষয়টি জানতে পেরে ১৩ এপ্রিল উদ্ভাবন প্রকল্প চুরির অভিযোগ এনে ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে জিডি করেছেন।

এটুআই কর্মকর্তা শামিম মাহমুদ বলেন, এ কে এম ইদ্রিস আলী উদ্ভাবনটি তাঁর বলে দাবি করে এটুআইয়ের ওয়েবসাইটে যন্ত্রটির কার্যকারিতা ও উদ্ভাবনটি সরকারের নজরে আনার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চেয়ে আবেদন করেন। এই পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভাবনটির ভিডিও চিত্র ধারণের জন্য গত শনিবার পাঁচ সদস্যের একটি দল বগুড়ায় পাঠানো হয়। পরে দলটি জানতে পারে যন্ত্রটির উদ্ভাবক অন্য একজন। সূত্র: প্রথমআলো

Pin It

Comments are closed.