আদিতমারীতে বিবাদ মিটাতে গিয়ে ইউপি সদস্য কারাগারে

খোরশেদ আলম সাগর :: দুই প্রতিবেশীর বিবাদ মিটাতে গিয়ে মিথ্যা মামলায় কারাবাস করছেন লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ফারুক মিয়া নামে এক ইউপি সদস্য।

কারাগারে থাকা ফারুক মিয়া উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদের এক নং ওয়ার্ড সদস্য।

মামলার বিবরণ ও প্রতিবেশীরা জানায়, উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের দক্ষিণ বালাপাড়া গ্রামের ব্যাংক কর্মচারী একাব্বর আলী ও তার প্রতিবেশী মাদ্রাসার শিক্ষক মনসুর রহমানের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলে আসছে। এ নিয়ে উভয় পক্ষে একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই জমিতে প্রবেশ না করতে আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

দীর্ঘদিনের বিবাদের নিষ্পত্তি করতে উভয় পক্ষই স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন জানালে তা নিষ্পত্তির দিন ধার্য করেন ইউপি চেয়ারম্যান। কিন্তু সেই বৈঠকের আগেই ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে দলবল নিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষক মনসুর রহমান ওই জমিতে জোর করে ধান লাগাতে যান।

প্রতিপক্ষের খবরে আসন্ন সংঘর্ষ এড়াতে ওই এলাকার ইউপি সদস্য ফারুক মিয়া তাদের ধান না লাগাতে ও বৈঠকের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মনসুর রহমানের লোকজন ইউপি সদস্যের ওপর চড়াও হন। এ সময় একাব্বর আলীর পক্ষটি ছুটে এলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে ইউপি সদস্যসহ উভয় পক্ষের ৮/১০ জন আহত হন।

আহতদের অনেককেই নিজ পক্ষের দাবি করে পরদিন ইউপি সদস্যকে প্রধান করে ২৫ জনের বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন মনসুর রহমান। যে মামলায় তিনি উল্লেখ করেন গুরুতর আহত তার চাচাত ভাই তোজাম্মেল হক ইউপি সদস্যের ছুরির আঘাতে আহত হয়েছেন।

এ মামলার খবর জানাজানি হলে ২৮ সেপ্টেম্বর আহত তোজাম্মেল হকের ভাই মোজাম্মেল হক বাদী হয়ে তার ভাইকে গুরুতর জখমের বিচার চেয়ে মনসুর রহমানকে প্রধান করে ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অপর একটি মামলা দায়ের করেন।

এদিকে ২ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে জামিন নামঞ্জুর করে ইউপি সদস্য ফারুক মিয়াকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

মাদ্রাসা শিক্ষক মনসুর রহমান জানান, ইউপি সদস্য তার কাজে বাধা দেয়ায় এ সংঘর্ষে তার প্রতিবেশী চাচাত ভাই তোজাম্মেল হক গুরুতর জখম হন। তাই ইউপি সদস্যকে আসামি করা হয়েছে। তবে আহত তোজাম্মেল হক দাবি করেন, মনসুর রহমানের ছেলের লাঠির ‍আঘাতে তিনি জখম হন। তিনি এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল মজিদ হোসেন ও আব্দুল মান্নান জানান, প্রতিবেশীদের বিবাদ মিটাতে গিয়ে যদি জনপ্রতিনিধিকে মারপিট খেতে হয়, মিথ্যা মামলায় হাজতবাস করতে হয়। তা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার দাবি করেন তারা।

আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হরেশ্বর রায় জানান, এ মামলায় মাদ্রাসা শিক্ষক মনসুর রহমান অত্যন্ত সুক্ষভাবে ক‍ূটকৌশল অবলম্বন করেছেন। তবে মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

Pin It

Comments are closed.