আদিতমারীতে প্রতিবন্ধী মাসুদের কার্ড ডিলারের দখলে!

নিউজ ডেস্ক: সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ১০ টাকা কেজি দরের চালের তালিকায় প্রতিবন্ধী মাসুদ রানার নাম থাকলেও কার্ডটি তার ভাগ্যে জুটেনি। জুটেছে সরকার দলীয় এক নেতা ও ডিলারের ভাগ্যে। গত দুই মাস যাবত্ কার্ডটি ডিলার নিজের দখলে রেখেছেন। এমনকি সেপ্টেম্বর মাসের ৩০ কেজি চাল উত্তোলনও করা হয়েছে তার নামে। আর এ চাল থেকে বঞ্চিত হয়েছেন প্রতিবন্ধী মাসুদ রানা। কার্ডটি উদ্ধারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন এ যুবকটি। এতোকিছুর পরেও এ নেতা কার্ডটি ফেরত দিতে রাজি হননি। অবশেষে শরণাপন্ন হয়েছেন সংবাদকর্মীদের নিকট।

জানা গেছে, উপজেলার ভাদাই ইউনিয়নের বসিনটারী গ্রামের তিন নং ওয়ার্ডের শমসের আলীর প্রতিবন্ধী ছেলে মাসুদ রানার নাম সরকারের হতদরিদ্রদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যার কার্ড নং-৩৯১। আর নামটিও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন শাসকদলের নেতা ও ফেয়ার প্রাইজ ডিলার ইলিয়াস আহমেদ বসুনিয়া। আর এ সুবাধে তার দখলে রেখেছেন প্রতিবন্ধীর কার্ডটি। এ কার্ডটি থেকে গত সেপ্টেম্বর মাসের ৩০ কেজি চাল উত্তোলন করে মাসুদকে মাত্র দুইশ ৪০ টাকা দেয়া হয়েছে বলে প্রতিবন্ধী যুবকটি জানায়। অক্টোবর মাসের চাল উত্তোলন করার জন্য কার্ডটি তার কাছ থেকে পেতে ধরনা দিচ্ছেন ডিলারসহ সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সদস্যের কাছে। তিনি কোনোভাবেই কার্ডটি ফেরত দিতে রাজি নয়। প্রতিবন্ধী মাসুদ রানার কার্ডটি উদ্ধারের জন্য তার বড় ভাই মঞ্জু শুক্রবার ডিলারের নিকট গেলে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে তিনি সাংবাদিকদের অভিযোগ করেন।

ভাদাই ইউনিয়নের তিন নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আব্দুল কাদের মিন্টু বলেন, একাধিকবার প্রতিবন্ধী মাসুদের নামের কার্ডটি ফেরত দেওয়ার জন্য ডিলারকে বলা হলেও তিনি কোনো কর্ণপাত করছেন না। ডিলার ইলিয়াস আহমেদ বসুনিয়া জানান, তার কার্ডটি আমার সুপারিশে হয়েছে। তাই যা খুশি আমিই করব। প্রয়োজনে মাসুদের নাম কেটে নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

আদিতমারী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এটিএম সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী বলেন, ডিলার কখনো কারো কার্ড নিজের কাছে রাখতে পারে না। তিনি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখবেন বলে জানান।

ইউএনও আব্দুল্লাহ আল খায়রুম বলেন, একজন প্রতিবন্ধীর কার্ড আটকে রাখা এটি সত্যিই দুঃখজনক। এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Pin It

Comments are closed.