আদিতমারীতে জরিমানার জন্য দু’দিন ধরে মাতব্বরের কাছে আটক দুই সহোদর

গ্রাম্য সালিশের জরিমানা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় দু’দিন ধরে আটকে রাখা দুই সহোদরকে মাতব্বরের কাছ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৯ আগস্ট) দিনগত রাতে লালমনিরহাটের আদিতমারী থানা পুলিশ পলাশী ইউনিয়ন পরিষদের ভবন থেকে তাদেরকে উদ্ধার করে।

উদ্ধার হওয়া দুই সহোদর হলেন- আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের সর্দারপাড়া গ্রামের মৃত আজগার আলীর ছেলে কাঠমিস্ত্রী জাকির হোসেন (২০) ও তার বড় ভাই জহুরুল ইসলাম (২৩)।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানান, উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের মহিষাশহর গ্রামের এক স্কুল ছাত্রীর সঙ্গে মোবাইলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন কাঠমিস্ত্রী জাকির হোসেন। এক পর্যায়ে প্রেমের টানে তারা বাড়ি থেকে উধাও হলে বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) সকালে আদিতমারী স্টেশন এলাকায় আটক হন তারা।

স্থানীয়রা মারধর করে জাকিরকে পলাশী ইউপি চেয়ারম্যানের হাতে তুলে দেন। ওই দিন সন্ধ্যায় বিষয়টি নিয়ে পলাশী ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান শওকত আলীর বাড়িতে বৈঠক বসে। চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সালিশ বৈঠকে ধর্ষণের অভিযোগ এনে জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন ইউপি সদস্য নুর মোহাম্মদ ও আজিজুল ইসলাম।
জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলে তার বড় ভাই জহুরুল ইসলামকেও পলাশী ইউপি ভবনে আটকে রাখেন মাতব্বররা।

পরে শুক্রবার রাতে খবর পেয়ে আদিতমারী থানা পুলিশ আটক দুই সহোদরকে উদ্ধার করে আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়।

এদিকে রাতে মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় জাকিরকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তবে তার বড় ভাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন আদিতমারী থানার ডিউটি অফিসার উপ পরিদর্শক (এসআই) এমএন সরকার।

আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হরেশ্বর রায় জানান, পুলিশ আটক দুই সহোদরকে উদ্ধার করেছে। কিন্তু জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

Pin It

Comments are closed.