অনিয়ম আর দুর্নীতির কারণে টার্গেট পূরণ হয়নি বুড়িমারী স্থলবন্দরের রাজস্ব আদায়

মোঃ লাভলু শেখ : দেশের বহুল আলোচিত লালমনিরহাট বুড়িমারী স্থলবন্দরের ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে রাজস্ব আদায়ে টার্গেট পূরণ হয়নি। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা আদায় হয়েছে। অর্জিত হয়েছে ৪৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা। রাজস্ব কম আদায় হয়েছে ২০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। অনিয়ম ও দুর্নীতি কারণে আমদানি-রপ্তানি কমে যাওয়া, বিশেষত অতিরিক্ত পাথর বোঝাই ভারতীয় ট্রাক আসা কমে যাওয়া ও রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে দুনীতি, জালিয়াতি ও চোরাচালানির কারণে রাজস্ব কমে গেছে। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জনায়, কয়েক মাস পূর্বে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী রাজ্যের ফুলবাড়ী জনসভায় যাওয়ার পথিমধ্যে সড়কে অতিরিক্ত পাথর বোঝাই ট্রাক দেখতে পান। এ সময় সড়কের যানজট দেখা দিয়েছিল। তিনি জানতে পারেন, এ সকল ট্রাক বাংলাদেশের বুড়িমারী স্থলবন্দরে যাচ্ছে। তিনি খোঁজ নেন, এ সকল অতিরিক্ত পাথর বোঝাই ট্রাক থেকে সরকারি নির্দেশ মোতাবেক রয়ালটি ও অন্যান্য ফি আদায় হচ্ছে কি না ? তাছাড়াও মাত্রাতিরিক্ত পাথর বোঝাই ট্রাক চলাচলে সড়কের কোন ক্ষতি হচ্ছে কিনা? এতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে। পূর্বের ন্যায় ভারতীয় ট্রাকে অতিরিক্ত পাথর আসা কিছুটা হলেও বন্ধ হয়ে যায়। এ দিকে ভারতের বন ও পরিবেশ মন্ত্রী পরিবেশ বিনষ্ট হওয়ায় পাহাড় থেকে অতিরিক্ত পাথর উত্তোলনের বিষয়ে বিধি নিষেধ জারী করেন। ভারতীয় পরিবেশবাদীরা পাহাড় থেকে অতিরিক্ত পাথর উত্তোলন বন্ধে সরকারের প্রতি দাবি জানায়। ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্থল শুলক স্টেশনটি বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ স্থল বন্দর হিসাবে চালু রয়েছে। এই স্থল বন্দরের সাথে সংশ্লিষ্ট আমদানি-রপ্তানিকারক সি এন্ড এফ এজেন্ট, রাজস্ব ও বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা কর্মচারী, রাজনৈতিক দলের নেতা, শ্রমিক, লেবার ঠিকাদার, কেরিং হোল্ডিং ঠিকাদার, সকলেই মিলে সিন্ডিকেট তৈরি করে দুর্নীতি ও জালিয়াতির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে নিজেরা সমৃদ্ধ হয়েছে। বুড়িমারী স্থল বন্দরের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সি এন্ড এফ এজেন্ট, আমদানি রপ্তানি কারক, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টির নেতা সহ শতাধিক ব্যক্তি শত শত কোটি টাকা অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছে।

১৯৮৮ সলের পূর্বে এবং বর্তমানে এই সকল ব্যক্তির সম্পদ বিষয়ে দুর্নীতি দমন বিভাগের মাধ্যমে অনুসন্ধান ও তদন্ত করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে। নিশ্চিত হওয়া যাবে এদের পূর্বের ও বর্তমান সম্পদের পরিমান। বর্তমানে এই বন্দরে কয়েক কোটি টাকার রাজস্ব অনাদায়ী রয়েছে।এই স্থল বন্দর দিয়ে চোরাচালানী পণ্য, মাদক, অস্ত্র, গোলাবারুদ, আসে বলে অভিযোগ রয়েছে। ইতঃপূর্বে এখানে কাস্টমস এর কোন নিজস্ব গুদাম ছিল না। ভারত থেকে বৈধ ও অবৈধ মালামাল বোঝাই ট্রাক সরাসরি সি এন্ড এফ এজেন্টের গুদামে-মজুদ হতো। সেখানে রাজস্ব নির্ধারণ হতো। এই স্থলবন্দরে শুধু রাজস্ব জালিয়াতিই নয়, জাল ব্যাংক ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালামাল ছাড়িয়ে নেয়ার অভিযোগও রয়েছে। মামলা হয়েছিল, কয়েকটি জাল ট্রেজারি চালানের টাকা জমা দিয়েছে বড় বড় রাঘব বোয়ালেরা পুলিশ ও কাস্টমসকে ম্যানেজ করে মামলা থেকে অব্যহতি নিয়েছে। পরবর্তীতে ট্রেজারী জালিয়াতির বিষয়ে নতুন আর কোন তদন্ত হয়নি। বুড়িমারী স্থলবন্দরের পাওনা কোটি কোটি টাকা রাজস্ব জমা না দিয়ে বরং সরকারের বিরুদ্ধে নব্য কোটিপতিরা মামলা করে গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এই স্থল বন্দর থেকে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, রাজনৈতিক দল ও অঙ্গ সংগঠন বিশেষ ব্যক্তিদের উৎকোচ হিসাবে দেয়া হয়। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিজ্ঞমহল।

Pin It

Comments are closed.